স্থানীয়দের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে দুই পক্ষের অন্তত দুই শতাধিক। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। ক্যাম্পাসের বিনোদপুর গেটে বাস সুপারভাইজারের সঙ্গে বাগিবতণ্ডা একপর্যায়ে রাবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন বেশকিছু দোকান ও পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। ৩ ঘণ্টার বেশি সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। এ অবস্থায় আজ ও আগামীকাল সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্যের আদেশক্রমে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রদীপ কুমার পান্ডের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে গত রাতে এ তথ্য জানানো হয়। গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাথা, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বগুড়া থেকে মোহাম্মদ বাসে চড়ে রাজশাহী আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী আলামিন আকাশ। বাসে সিটে বসাকে কেন্দ্র করে গাড়ির ড্রাইভার শরিফুল ও সুপারভাইজার রিপনের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেটে পৌঁছলে আবারো ঝামেলা শুরু হয়। তখন স্থানীয় এক দোকানদার এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং স্থানীয় দোকানদারের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে স্থানীয়রা একজোট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ধাওয়া করেন। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসহ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপরও হামলা চালায় স্থানীয়রা। সংঘর্ষ চলাকালে বিনোদপুর গেটে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে ইটপাটকেল ছোড়ে কয়েকশ স্থানীয়। তাদের ছোড়া ইটে আহত হন শতাধিক শিক্ষার্থী। একসময় বিনোদপুর বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আগুন দেয়া হয় বিনোদপুর গেটের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন কয়েকটি দোকান ও পুলিশ বক্সেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসে শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। এ সময় স্থানীয়রা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ক্যাম্পাসে ফিরে যান শিক্ষার্থীরাও। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা আবার জোট বেঁধে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তারা বের হতে চাইলে পুলিশ প্রথমে জলকামান ব্যবহার করে। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। রাবার বুলেটের আঘাতে সাত-আট শিক্ষার্থী আহত হন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাস ভাড়াকে কেন্দ্র করে রাবি ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৮০ জন আহত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।