ঘরের মাঠে চলমান কোপা আমেরিকায় টানা দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হয়ে উঠল নয়বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। গতকাল সকালে সেলেসাওরা ৪-০ গোলে হারিয়েছে পেরুকে। টানা দুই জয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে নকআউটের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। এদিন এক গোল করে ব্রাজিলের জয়ে অবদান রাখেন নেইমার, যিনি ব্রাজিলের রেকর্ড গোলদাতা পেলের আরো কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন। আর সাত গোল করলেই ছুঁয়ে ফেলবেন সর্বকালের সেরা ফুটবলারকে।

প্রথম ম্যাচে ভেনিজুয়েলাকে ৩-০ গোলে হারানোর পর তিতের ব্রাজিল আরো অপ্রতিরোধ্য, এবার তারা পেরুকে ভাসাল গোলবন্যায়। গতকাল ম্যাচের ১২ মিনিটে জুভেন্টাসের খেলোয়াড় অ্যালেক্স সান্দ্রোর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। প্রথমার্ধে আরো বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানালেও গোল আর করতে পারেনি স্বাগতিকরা। যদিও তিতের শিষ্যরা দ্বিতীয়ার্ধে আদায় করে নেয় আরো তিন তিনটি গোল। ৬৮ মিনিটের ব্যবধান ২-০ করেন নেইমার। ৮৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় এভারটন রিভেইরো ব্রাজিলের হয়ে তৃতীয় এবং যোগ করা সময়ে রিচার্লিসন চতুর্থ গোল করেন।

নেইমারের গোলটি দলের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি তার নিজের মাইলফলক অর্জনের জন্যও। পেলের চেয়ে মাত্র ৯ গোল দূরে দাঁড়িয়ে তিনি। কিংবদন্তি পেলে ব্রাজিলের হয়ে করেছেন ৭৭ গোল, নেইমারের হয়ে গেল ৬৮। টানা দুই ম্যাচেই গোল পেলেন তিনি। হয়তো চলতি কোপায়ই পেলের সঙ্গে ব্যবধান আরো কমিয়ে আনতে সমর্থ হবেন এ ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের হয়ে তিনবার বিশ্বকাপ জয় করা পেলে গোলের রেকর্ড ভাঙার জন্য নেইমারের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেলে বলেছেন, জাতীয় দলের হয়ে আমার গোলের রেকর্ডটা ভাঙার পথে আজ সে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। আমি চাই, সে রেকর্ডটা নিজের করে নিক। আমি প্রথমদিন তাকে খেলতে দেখে যে আনন্দ অনুভব করেছিলাম আজও সমানভাবে করি।

এরই মধ্যে রোনালদো নারাজিওর গোল (৬২) টপকে গেছেন নেইমার। এখন তার সামনে শুধু পেলে। গোল রেকর্ডের হাতছানি নিয়ে নেইমার বলেছেন, আমি আমার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আর পরিবারের কাছ থেকে যে সুখটুকু পাই তার সঙ্গে এ সংখ্যা কোনোভাবেই তুলনীয় নয়। অবশ্য ব্রাজিল দলের ইতিহাসে নিজের নাম স্থান পেলে তা আমার জন্য অবশ্যই গৌরবের। সত্য বলতে কী, আমার স্বপ্ন ছিল ব্রাজিলের হয়ে খেলা, এই জার্সিটা গায়ে তোলা। গোলের সংখ্যা এতদূর নিয়ে আসতে পারব বলে আমি কখনই কল্পনা করিনি।

হয়তো পেলের রেকর্ড একদিন ভাঙবেন নেইমার। তবে গোলগড়ে পেলেকে টপকানো তার পক্ষে হয়তো আর সম্ভব নয়। মাত্র ৯২ ম্যাচে ৭৭ গোল করেছেন পেলে, আর নেইমার ৬৮ গোল করতে খেলেছেন ১০৭ ম্যাচ। পেলের গড় শূন্য দশমিক ৮৪, নেইমারের শূন্য দশমিক ৬৩।