নেপালে চলমান নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের হ্যাটট্রিকে ভর করে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। কাঠমান্ডুতে গতকাল গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে সাবিনার জোড়ায় মালদ্বীপকে ৩-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের পথে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।

আগামী মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে গোলাম রব্বানী ছোটনের দল। ‘এ’ ও ‘বি’ গ্রুপ থেকে শীর্ষ চারটি দল উঠবে সেমিফাইনালে। ‘বি’ গ্রুপে খেলছে শ্রীলংকা, ভুটান ও নেপাল।

কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে গতকাল ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের মেয়েদের দাপট চলছিল। প্রথমার্ধেই ৪ গোল করে প্রতিপক্ষকে হতভম্ব করে দেন সাবিনা ও তার সতীর্থরা। ম্যাচের ৩ মিনিটেই সাবিনার বাড়ানো বল পাকিস্তানের ডিফেন্ডার ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি, বল পেয়ে যান মনিকা চাকমা। ডান পায়ের জোরালো শটে ১-০ গোলে দলকে এগিয়ে নেন মনিকা। ২৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সিরাত জাহান স্বপ্না। এবারো অবদান রাখেন সাবিনা। তার পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান স্বপ্না।

এরপর শুরু হয় ‘সাবিনা শো’। ৩১ মিনিটে মনিকার বাড়ানো বল প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে সাবিনার কাছে যায়। দারুণ দক্ষতায় তা জালে জড়িয়ে দেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ৩৫ মিনিটে সানজিদার পাস থেকে সাবিনা নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন। ৫৮ মিনিটে মারিয়া মান্দার ক্রস থেকে হেডে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাবিনা। ৭৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ঋতুপর্ণা চাকমা জোরালো শটে দলের ষষ্ঠ ও শেষ গোলটি করেন।

মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আগের পাঁচ আসরে একবার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের ওই আসরে ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল তারা। এবার শিরোপার স্বপ্ন জেগেছে সাবিনা-মনিকাদের।

বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন টুর্নামেন্ট শুরুর দুদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে শিরোপা জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিষ্যরা পরপর দুই ম্যাচে প্রতাপ দেখানোর পর কোচের বিশ্বাস আরো বাড়বে নিশ্চিতভাবেই। আর গতকাল পরাজিত পাকিস্তান দলের কোচ আদিল মির্জা রিজকি এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে সেরা দল হিসেবে অভিহিত করলেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি, সম্ভবত এ মুহূর্তে টুর্নামেন্টের সেরা দল বাংলাদেশ এবং এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, যদিও ভারত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশের বিপক্ষে আমাদের আরো সতর্ক থাকা, স্মার্ট হওয়া, বল দ্রুত মুভ করা ও সুযোগগুলো কাজে লাগানো উচিত ছিল।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আসলেই খুব ভালো বল প্লেয়িং টিম, তাদের বিপক্ষে খেলা সহজ ছিল না। পাকিস্তান এখনো তরুণ একটি দল, আমাদের আরো অনেক কাজ বাকি আছে এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এখন পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবছি।

টানা দুই ম্যাচে হেরে পাকিস্তানের বিদায় প্রায় নিশ্চিত। মঙ্গলবার শেষ ম্যাচে তারা খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে।

নারীদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচ আসরে পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ২০১৬ সালে জয় করা রানার্সআপ ট্রফিই বাংলাদেশের সেরা অর্জন।