বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্ত ব্যক্তির দ্বিতীয়বার পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। আজ শুক্রবার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষায় এই ফল পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, গত ১৬ এপ্রিল জেলায় প্রথম করোনভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তাবলিগ ফেরত ৬৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। সেসময় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করা পরীক্ষায় এ ব্যক্তির ওই ফল পাওয়া যায়। আজ একই ল্যাবে দ্বিতীয়বার হওয়া নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ওই ব্যক্তির কারোনভাইরাস নেগেটিভ পাওয়া গেছে। তবে প্রথমে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হলেও ওই ব্যক্তির শরীরে এখনো পর্যন্ত কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে পাওয়া নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে থানচি উপজেলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুই ব্যক্তি ও লামা উপজেলায় এক নারী করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। শনাক্তদের মধ্যে থানচি উপজেলার পুলিশ কর্মকর্তা ও লামা উপজেলার নারীকে স্ব স্ব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং অন্য ব্যক্তিকে বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। 

এর মধ্যে থানচি উপজেলায় করোনভাইরাস পজেটিভ শনাক্তদের সংস্পর্শে আসায় বুধবার সকাল থেকে থানচি উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন, চিকিৎসকসহ ২৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।

অপরদিকে শনাক্ত হওয়ার দুই-তিন আগে থেকে থানচি উপজেলার অন্য ব্যক্তি বান্দরবান সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভিন্ন অসুস্থতাজনিত কারণে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত হলে ওইদিনই হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়। একইসঙ্গে ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায় চার চিকিৎসক ও পাঁচজন নার্সও তখন থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। 

বান্দরবান সিভিল সার্জন ডা. অংসুইপ্রু মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, থানচি উপজেলা ও বান্দরবান সদর হাসপাতাল মিলে ৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ির করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত ব্যক্তির আজ দ্বিতীয়বার করা নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হয়েছে। তবে তাকে এখনই ছেড়ে দেয়া হচ্ছে না। আরও কয়েকদিন আইসোলেশন ইউনিটে অবজারভেশন রেখে কয়েকদিন পর তার তৃতীয়বার নমুনা পরীক্ষা করে পাওয়া ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে থানচিতে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া দুইজনই এখনো পর্যন্ত সুস্থ রয়েছে বলে জানান তিনি।