কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা গ্রামের সুলতান আহমেদের বাড়িতে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরেক আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

গতকাল দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে রায় ঘোষণার পর উপস্থিত আসামিরা আদালতে ভাংচুর চালান। এ সময় তারা বিচারককেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মমতাজ উদ্দিন, নজরুল ইসলাম মজনু, আমির হামজা, জাকির হোসেন, জালাল গাজি ও হাসমত আলী। রায় ঘোষণাকালে আসামি জালাল গাজি ছাড়া বাকিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য আসামি নাইনুল ইসলামকে খালাস দেয় আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন। এছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুসহ পাঁচজন।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা গ্রামে সুলতান মিয়ার বাড়িতে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত গভীর রাতে প্রবেশ করে সুলতান মণ্ডল, তার নাতনি রোমানা, আনিকা ও স্ত্রী হাজেরাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন নিহত সুলতানের ছেলে হাফিজুর রহমান ভুরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি মমতাজ উদ্দিনের সঙ্গে ছোট ভাই নিহত সুলতান আহমেদের বিরোধ ছিল। মমতাজ উদ্দিন সুলতান আহমেদকে হত্যার জন্য বাকি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ৫ লাখ টাকা ও এক বিঘা জমি দেয়ার চুক্তিতে ভাড়া করে।

রায় ঘোষণার পর নিহতদের স্বজন রফিক আহমেদ বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই দ্রুত এ রায় কার্যকর করা হোক।

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, চার্জশিট দাখিলের দ্রুততম সময়ে এ রায় ঘোষণা করা হলো। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কাঠগড়া ভাংচুরের ঘটনার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচারণই প্রমাণ করে তারা কতটা দুর্ধর্ষ। আমরা দ্রুত এ রায় কার্যকর চাই।