ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যদের সুযোগ-সুবিধাসহ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় মানুষের জানমাল রক্ষায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও আবাসন সুবিধা বাড়াতে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। গতি, সেবা ও ত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাদের পেশাদারিত্ব, সাহস ও ত্যাগ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে দেশে অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, বন্যা, ভূমিধস ও ভবনধসের ঘটনা বাড়ছে। ভূমিকম্পের ঝুঁকিও রয়েছে। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা দিন দিন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় এটি যথেষ্ট নয়। এজন্য নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। এরই মধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সেবা বাড়াতে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজ চলছে। ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ৭২টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবেলায় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বাহিনীর জনবল কাঠামো পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স কার্যক্রম চলতি বছরের ১ মে থেকে চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মিরপুর ও সদরঘাটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। মিরপুরে সদর দপ্তর ভবন নির্মাণও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ ভাতা চালুর দাবিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ এবং অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার বিষয়টি সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বিভিন্ন সময় জীবন দিয়েছেন। সর্বশেষ টঙ্গীর রাসায়নিক গুদামের আগুনে তিন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ২৭ হাজার ৫৯টি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করেছে। এতে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে তিনি পাসিং আউট কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।
কুচকাওয়াজে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার বিভাগে ১২ জন, অগ্নিনির্বাপক বিভাগে ১৫৮ জন, সেবাকর্মী বিভাগে ২ জন, চালক বিভাগে ৫৬ জন এবং ডুবুরি বিভাগে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন অংশ নেন।
পরে বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জন সদস্য রয়েছেন।










