১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র প্রতিরোধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অর্জিত হয় স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা। বর্ণিল আয়োজনে গতকাল সারা দেশে উদযাপিত হয়েছে দিবসটি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

চট্টগ্রাম: শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করেছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়া দিবসটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চিত্র প্রদর্শনী, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসের শুরুতে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভূমি ও পার্বত্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ ও ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ।

রাজশাহী: দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন করে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদ। এছাড়া রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) পক্ষ থেকে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. গোলাম মরতুজা।

চাঁদপুর: ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে চাঁদপুরে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে অঙ্গীকার পাদদেশে ভোর ৬টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের প্রধান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এছাড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়কে জাতীয় পতাকা ও ফেস্টুনে সজ্জিত করা হয়।

গাজীপুর: দিবসটি উপলক্ষে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ৩৬ শে জুলাই চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় মার্চ পাস্ট। সকাল ১০টায় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর। এছাড়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

গোপালগঞ্জ: প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনি ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে শুরু হয় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান। এরপর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান। পর্যায়ক্রমে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।

যশোর: সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ নানা কর্মসূচিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) স্বাধীনতা উদযাপন করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।

লক্ষ্মীপুর: সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা কালেক্টরেট ভবন প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ।

নেত্রকোনা: স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক, জেলা প্রশাসক খন্দকার মশফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে নেত্রকোনা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

টাঙ্গাইল: জেলা সদরের জনসেবা চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ১ মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া করা হয়। তাছাড়া সকাল ৯টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুরসহ সারা দেশে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপন করা হয়েছে দিবসটি।