দেশে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটের দিনের আগেই শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ, স্পষ্ট আইনকানুন, ডিজিটাল সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভুয়া তথ্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল প্রচারণা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় হুমকি। নির্বাচনী ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা আনতে এসব বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। রাজধানীর গুলশানের হোটেল সারিনায় গতকাল অনুষ্ঠিত ‘ফান্ডামেন্টালস অব ক্রেডিবল ইলেকশনস: ইনস্টিটিউশনস, ট্রাস্ট অ্যান্ড পলিটিক্যাল পার্টিসিপেশন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনার আয়োজন করে ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ (ডিএফআই)। এতে আঞ্চলিক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং রাজনৈতিক অংশীজনরা অংশ নেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নেপালের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার দিনেশ কুমার থাপালিয়া, মালদ্বীপের সাবেক নির্বাচন কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আকরাম এবং ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজসহ আরো অনেকে।
নেপালের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার দিনেশ কুমার থাপালিয়া নিজের বক্তব্যে আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘ভুয়া তথ্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং নিয়ন্ত্রণহীন ডিজিটাল প্রচারণা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বর্তমান সময়ে নির্বাচনের সুরক্ষাও হতে হবে ডিজিটাল। অনলাইন পরিসর অরক্ষিত থাকলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকির মুখে পড়ে।’ নেপালের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বিশেষজ্ঞ রমেশ অধিকারী বলেন, ‘ভোট দেয়ার অনেক আগেই প্রতিষ্ঠান, নিয়মকানুন এবং আচরণের মধ্য দিয়ে আস্থা তৈরি হয় বা নষ্ট হয়। নির্বাচন যদি সবার না হয়, তাহলে তা কারোরই থাকে না।’
বিএনপির প্রতিনিধি অর্পণা রায় বলেন, ‘নির্বাচনী পরিকল্পনায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়গুলো আরো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ডাকযোগে ভোটদান ব্যবস্থায় আরো প্রস্তুতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এএসএম রিদওয়ানুর রহমান বলেন, ‘যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগাম সংকট ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত রাখা জরুরি।’ তিনি প্রতিরোধমূলক সুরক্ষার পাশাপাশি প্রস্তুতির গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন।
নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কসোভো, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান ও অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। তারা সামগ্রিক পরিবেশকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন, একই সঙ্গে আগাম সুরক্ষা ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেয়াকে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান। অনেক কূটনৈতিক প্রতিনিধি নারী ভোটারদের নিরাপদ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর আলোকপাত করেন।
দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনা ও উন্মুক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কৌশলবিদ আশফাক জামান।










