বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রাসাদসম বাড়ির মালিক সাখাওয়াত হোসেনের (৬৫) বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে ৯ কোটি ৩২ লাখ ১৩ হাজার ৮৬১ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

দুদকের বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান বাদী হয়ে রোববার দুপুরে এ মামলা করেন। সাখাওয়াত হোসেন এএইচজেড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বগুড়ার শিবগঞ্জের দেউলি গ্রামের আব্দুল হাই সরকারের ছেলে।

জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলি গ্রামের বাড়িতে ঢাকার ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন টুটুল শ্বেতপাথর দিয়ে প্রাসাদসম বাড়ি নির্মাণ করেন। তিনি ঢাকার ধানমণ্ডিতে থেকে বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ২০০৬ সাল থেকে ১০ বছর ধরে এক একর জমিতে বাড়িটি নির্মাণে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বাড়ির সামনে পুকুর, শ্বেতপাথরের সিঁড়ি, দেয়ালে, ডাইনিংয়ে, বেডরুমে, বারান্দায়, ছাদে রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। সাদা রঙের বাড়িটি যেন রাজার প্রাসাদ। তবে সেই বাড়িতে কেউ বসবাস করেন না। শুধু কেয়ারটেকার রয়েছেন দেখাশোনার জন্য। সাখাওয়াত পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। বাড়িটি নির্মাণের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরপরই বাড়িটি নিয়ে সবার মাঝে কৌতূহল জাগে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করে। একপর্যায়ে ২০১৮ সালে ঢাকার মতিঝিল থানায় রূপালী ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে ৯৩ কোটি টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম একটি মামলা করেন। মামলার পর গ্রেফতার হয়ে তিনি কারাগারেও ছিলেন।

দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, সাখাওয়াত হোসেনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেয়া হয়। তিনি ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তার সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সাখাওয়াতের দেয়া সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায় তার স্থাবর-অস্থাবর মিলে সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু যাচাইকালে তার স্থাবর-অস্থাবর মিলে সম্পদ মিলে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৯ কোটি ২৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৭ টাকার। এ হিসেবে সাখাওয়াতের জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে ৯ কোটি ৩২ লাখ ১৩ হাজার ৮৬১ টাকার সম্পদ ভোগ-দখল রেখেছেন। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।