সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে কাজ করছে। দুই দেশের মধ্যকার সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
গতকাল দুপুরে কুড়িগ্রামের ধরলা সেতু এলাকায় র্যাব-১৩-এর উদ্যোগে এক হাজার শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আর কোনো হত্যার ঘটনা ঘটবে না। আমরা দুই পক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সীমান্তে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না। তার পরও যেসব ঘটনা ঘটে যায়, তা পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষ বসে সমঝোতা করা হয়।
সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই পক্ষের সবাই আন্তরিক বলেই মন্তব্য করেন তিনি। দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এবং বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত হত্যা হবে না সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার পরও ঘটে যায়। শুধু কুড়িগ্রামে নয়, অন্য সীমান্তেও ঘটে। কারণ দেশের চতুর্দিকে ভারত ও মিয়ানমার।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ-ভারত ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। ওপারের মানুষের সঙ্গে এপারের সীমান্তবর্তী মানুষের নানা কাজে সুসম্পর্ক থাকে। মনের টানেও অনেকে নিজের অজান্তেই অনেক সময় সীমানা অতিক্রম করে ফেলেন। আবার অনেকে যেটা করা উচিত না সেসবও করেন। এজন্য মাঝে মাঝে দু-একটি ঘটনা ঘটে যায়।
‘অনাহূত কারণে নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে’ বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অহেতুক বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দেয়া হয়নি। তারা হামলা, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলেই মামলা হয়েছে। মামলা বিএনপির বিরুদ্ধে হচ্ছে না, মামলা হচ্ছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে। কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজ করে আসছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারই একটি উদাহরণ কুড়িগ্রামের শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ। র্যাব অপরাধ দমনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেই দেশে শান্তির সুবাতাস বইছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে সীমান্তে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৪ জন, আহত হয়েছেন আটজন, অপহূত হয়েছিলেন তিনজন, এমনকি নির্যাতনের শিকার হয়েও প্রাণ হারিয়েছেন একজন।
এর আগে ২০২০ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪২ জন বাংলাদেশী। সে বছর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ গিয়েছিল আরো ছয়জনের, আহত হয়েছিলেন ২৬ জন। তার আগের বছর ২০১৯ সালে সীমান্তে মোট প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪৩ জন। সেবার বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩৭ জন বাংলাদেশী আর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ গিয়েছিল আরো ছয়জনের।









