খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় বছরে মাছ উৎপাদন হয় ৭ লাখ ১৮ হাজার ৪০৫ টন। এর মধ্যে শুধু চিংড়ি উৎপাদন হয় ১ লাখ ১১ হাজার ২১৮ টন। মাছ উৎপাদনে বিভাগে প্রথম স্থানে রয়েছে যশোর জেলা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলায় মাছ উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন। তবে পিছিয়ে রয়েছে মেহেরপুর। সেখানে মাছ উৎপাদন হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টন।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলায় বছরে মাছ উৎপাদন হয় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৩ টন, চুয়াডাঙ্গায় ১৬ হাজার ৯৫৪, ঝিনাইদহে ৩৮ হাজার ৮৭৬, খুলনায় ১ লাখ ১০ হাজার ৯৫, কুষ্টিয়ায় ৩২ হাজার ২০২, মাগুরায় ১৩ হাজার ৮৪৫, নড়াইলে ১৪ হাজার ২৬৬ ও সাতক্ষীরায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৭১ টন।
প্রতি বছর যশোরে মাছ উৎপাদন বাড়ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলায় উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ লাখ ৪১ হাজার ১০৭ টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ লাখ ৩১ হাজার ১৪৩, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৯২ দশমিক ৮৫, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ লাখ ২২ হাজার ১৬৮ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ৬১০ টন।
জেলায় ২২ প্রজাতির মাছ চাষ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রুই মাছ উৎপাদন হয়। গত বছর রুই মাছ উৎপাদন হয় ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৫ টন। পাঙাশ ১১ হাজার ৬৩৬ টন, তেলাপিয়া ১৭ হাজার ৯০৫, কৈ ২ হাজার ৭৭৮, শিং-মাগুর ৫ হাজার ৯৩৪ দশমিক ২, গুলশা-পাবদা ১৭ হাজার ৭১৩, গলদা চিংড়ি ৯ হাজার ৫৬০, বাগদা চিংড়ি ৩৫৪, ছোট চিংড়ি ৮৯ দশমিক ৫ ও অন্যান্য জাতের মাছ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৯৭২ দশমিক ৮৮ টন।
জেলার অন্যতম মৎস্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আফিল অ্যাকোয়া ফিশ। দুই হাজার বিঘা জমির ওপর আটটি ইউনিট চালু রয়েছে তাদের, যেখানে প্রতিদিন ১০ টন মাছ ও পোনা উৎপাদন হচ্ছে। এখানে দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রফিকুল আলম জানান, গত তিন বছরে জেলায় চাহিদার তুলনায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৫ টন মাছ বেশি উৎপাদন হয়েছে। মাছ উৎপাদনে খুলনা বিভাগের মধ্যে যশোর প্রথম স্থানে রয়েছে। প্রতি বছর জেলায় মাছ উৎপাদন বাড়ছে।









