ঈদ বোনাস, ছুটির টাকা ও চলতি মাসের অর্ধেক বেতনের দাবিতে কয়েক দিন ধরেই আন্দোলন করছেন আলিফ গ্রুপের স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেডের সাড়ে আট শতাধিক শ্রমিক। এ অবস্থায় আলিফ গ্রুপের তিনটি কারখানা গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ঈদুল ফিতরের ছুটি নয় দিনের পরিবর্তে ১১ দিন করার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের ইউটা নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় আলিফ গ্রুপের বন্ধ ঘোষণা করা কারখানা হলো স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেড, স্বাধীন ডায়িং লিমিটেড ও স্বাধীন প্রিন্টিং লিমিটেড। শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে গতকাল থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে একটি নোটিস টানিয়ে দিয়েছে।

শ্রমিকরা বলছেন, সকালে কারখানার গেটে গিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিস দেখতে পান তারা। পরে তারা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।

তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৭-১৯ মার্চ পর্যন্ত কারখানার সব শ্রমিক সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করেন। এ কারণে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে এবং অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রমিকরা জানান, ঈদ বোনাস, বার্ষিক (অর্জিত) ছুটির টাকা ও চলতি মাসের অর্ধেক বেতনের দাবিতে তিনদিন ধরে কারখানার ভেতরে শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করে আসছেন তারা। ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানে সাড়ে আট শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন। কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি পূরণ করা তো দূরের কথা, তারা কারখানায় আসা বন্ধ করে দিয়েছে। ঈদ এলেই মালিক এবং কারখানার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এমন আচরণ করেন। আশপাশের কারখানার শ্রমিকরা যখন তাদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত, তখন আমরা আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত।

এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কোনাবাড়ী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তিনদিন ধরে শ্রমিকরা ঈদ বোনাস, ছুটির টাকা ও চলতি মাসের অর্ধেক বেতনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। কর্তৃপক্ষ কোনো সমাধান না করে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা বলছেন, ২৫ মার্চ ঈদ বোনাস দেবেন এবং ২৭ মার্চ চলতি মাসের অর্ধেক বেতন দেবেন। শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি প্রত্যাখ্যান করে কর্মবিরতি পালন করছেন।’

অন্যদিকে ঈদের ছুটি নয় দিনের পরিবর্তে ১১ দিন করার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইউটা পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে দুর্ভোগে পড়েন চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। গতকাল গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর এলাকায় কারখানার সামনে ১ ঘণ্টার বেশি সময় সড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল লতিফ খান এবং সালনা হাইওয়ে থানার ওসি সালেহ আহমেদ বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং সেনাবাহিনী কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অলোচনার প্রতিশ্রুতি দিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। পরে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।’

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ ঈদে নয় দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শতাধিক শ্রমিক কাজ বন্ধ করে কারখানা সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সকাল ৯টার দিকে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। সরকার ঘোষিত ছুটির বাইরে বাকি ছুটির জন্য তাদের অতিরিক্ত ডিউটি করিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাহলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি দিল কোথায়? যে কয়দিন ছুটি দিয়েছে এরই মধ্যে তারা সে কয়দিন ডিউটি করে দিয়েছেন। তাছাড়া নয় দিনের মধ্যে একদিন শুক্রবার। সেটা তো সাপ্তাহিক ছুটি। তাহলে কারখানার পক্ষ থেকে ছুটি দিল কীভাবে?

এ ব্যাপারে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল লতিফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শ্রমিকরা দুইদিন ছুটি বাড়ানোর দাবিতে সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে মহাসড়ক অবরোধ করলে হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করলে মহাসড়ক থেকে তারা সরে যান।’