কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লালন শাহ হলে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাতে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।

মঙ্গলবার বিকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একজন বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। রাতেই তাদের আদালতে নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ফরিদ উদ্দীন।

মামলায় অভিযুক্ত নয়জনের মধ্যে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাব্বির হোসেন, লিমন হোসেন, শেহান শরীফ, কান্ত বড়ুয়া, শফিউল্লাহ, তরিকুল, মুকুল, জিহাদ এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সঞ্চয় বড়ুয়ার নাম রয়েছে। এর মধ্যে সাব্বির, শেহান, কান্ত, শরিফুল এবং সঞ্চয়কে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার (১৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে লালন শাহ হলের ৩৩০ নম্বর কক্ষে র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন আমির হামজা, শামীম রেজা, রাকিবুল হাসান এবং আবু সাইম।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা কয়েকদিন ধরে বিভিন্নস্থানে বিভিন্নভাবে তাদের র‍্যাগিং করে আসছিলেন। তারা ভুক্তভোগীদের দিয়ে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করিয়ে ও বিভিন্নভাবে হুমকিসহ নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন।

রাকিবুল হাসান বলেন, আমাদের একজনকে পাঁচ রকমের হাসি দিতে বলা হয়। অপরজনকে সিনিয়র এক ভাইকে কল দিয়ে বাজে ভাষায় কথা বলতে বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী তারেক হোসাইন বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে এসেছি মাত্র ১৭ দিন। এই ১৭ দিন ধরেই অভিযুক্তরা তাদের উপর নির্যাতন চালায়।

আরেক ভুক্তভোগী ছাত্র রাকিব বলেন, আমাদের রুমে ডেকে নিয়ে একজনকে পাঁচ রকমের হাসি দিতে বলা হয়। অন্যজনকে সিনিয়র এক ভাইকে কল দিয়ে বাজে ভাষায় কথা বলতে বলা হয় এবং আরেকজনকে নাচতে বলা হয়।

অন্য ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের মশা ধরতে, অশ্লীল কবিতা পাঠ করতে এবং পর্নো তারকাদের নাম বলার জন্য জোর করা হয়।

ঘটনার তদন্তে লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আকতার হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী রোববারের (২৪ নভেম্বর) মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন— সহকারী রেজিস্ট্রার জিল্লুর রহমান (সদস্য সচিব), সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম এবং আবাসিক শিক্ষক রসুল করিম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, মামলার বিষয়টি আলাদা। আমরা তদন্ত করছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।