অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এতে করে জেলার ১১টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় লাখো মানুষ।
আজ রোববার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামীকাল (২৯ জুন) পর্যন্ত নদ-নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৭২ ঘণ্টার ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ৪৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় আজ সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
এতে করে প্লাবিত হয়েছে জেলা সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা, তাহিরপুর উপজেলা, জামালগঞ্জ উপজেলা, ছাতক উপজেলা, দোয়ারাবাজার উপজেলা, শাল্লা উপজেলা, ধর্মপাশা উপজেলা ও জগন্নাথপুর উপজেলার ৩২টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র খুলা হয়েছে ৭৮টি। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪’শ ১০ মেট্রিকটন জিআর চাল, ২৯ লাখ ৭০ হাজার টিআর নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর, কাজীর পয়েন্ট, হাছননগর, উকিলপাড়া, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া, বড়পাড়াসহ পুরো শহরে সড়কে হাটু পানির উপড়ে। ব্যাহত হচ্ছে চলাচলও। তবে অধিকাংশ বাসা-বাড়িতেও পানি ওঠেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে আগামীকাল (২৯ জুন) পর্যন্ত নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর থেকে সুনামগঞ্জের পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জে ১১ উপজেলা। শহরের অনেক এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। আমরা প্রতিটি উপজেলাসহ প্লাবিত এলাকার মানুষদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্র পাঠাচ্ছি। প্লাবিত এলাকার মানুষেরকে সুকনো খাবারেরও ব্যবস্থা করেছি। বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পুরো প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।









