উন্নয়নের সুফল সমাজের সেবাবঞ্চিত ও পিছিয়ে থাকা সব মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। এজন্য নারী, তরুণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থবহ ডিজিটাল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত গ্রামীণফোনের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আলোচনায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু ও প্রথম পর্যায়ের অর্জিত সাফল্য উদযাপনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের সঙ্গে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে গ্রামীণফোনের এ উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ডিজিটাল রূপান্তরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় ডিজিটাল সংযোগ পৌঁছে যাওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং নাগরিক অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রকৃত ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য শুধু সংযোগের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না। নারী-পুরুষ, ভৌগোলিক অবস্থান, সামাজিক অবস্থান বা শারীরিক সক্ষমতা নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক অর্থবহভাবে ডিজিটাল জগতে অংশ নিতে পারছেন কিনা সেটিই এর প্রকৃত মানদণ্ড।’
তিনি বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে শুধু অবকাঠামো ও বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়; মানুষের দক্ষতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তাদের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার একা এ কাজ করতে পারবে না। টেলিনর, গ্রামীণফোনসহ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো এগিয়ে আসতে হবে।’
এ সময় দ্বিতীয় ধাপে যুব উন্নয়নের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানান। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্রযুক্তিকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান ও টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
তিনি জানান, জর্জিয়া, থাইল্যান্ডে ইএসক্যাপের সভা এবং সম্প্রতি সাংহাইয়ের সর্বত্র ‘নো ওয়ান লেফট বিহাইন্ড’ স্লোগানটি দেখেছেন। বাংলাদেশেও এ নীতি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘গ্রামীণফোনের মূল সেবা হিসেবে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও সংযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে, যদিও সেখানে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কম।’ পাশাপাশি তিনি কলড্রপ ও ডেটা প্যাকেজ নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ দূর করতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, ‘শুধু ইন্টারনেট সংযোগ নয়, ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের মানও ডিজিটাল বিভাজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠবে।’ তিনি বলেন, ‘কার্যকর বা অর্থবহ কানেক্টিভিটি কেবল নেটওয়ার্ক কাভারেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার। গ্রামীণফোনের এ উদ্যোগটি পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কীভাবে ডিজিটাল বৈষম্য দূর হতে পারে তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সোশ্যাল ও গভর্ন্যান্সের (ইএসজি) হেড অব এনভায়রনমেন্ট ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির প্রসারের ওপর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস; জিএসএমএর সিনিয়র মার্কেট এঙ্গেজমেন্ট ম্যানেজার গগনদীপ মনচান্দা; টেলিনর এশিয়ার চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনীষা ডোগরা; গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ এবং গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনে বিভিন্ন খাতের যৌথ উদ্যোগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমানের সঞ্চালনায় এক কথোপকথনের মাধ্যমে উদ্যোগটির মাধ্যমে নিজেদের প্রাপ্ত সুবিধার কথা তুলে ধরেন পিয়ালী সিনহা, শানু আক্তার, মোনালিসা আক্তার ইরিন ও অন্তরা আক্তার।










