বাগেরহাটের মোংলা থেকে উদ্ধার করা ৭৩ সন্ধি কচ্ছপ খানজাহান আলীর (রহ) মাজারসংলগ্ন দীঘিতে অবমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা এ কচ্ছপ অবমুক্ত করেন। এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী, বন্যপ্রাণী পরিদর্শক রাজু আহমেদসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার রাতে মোংলা উপজেলার দিগরাজ বাজারসংলগ্ন আপাবাড়ী নামক স্থানে কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৭৩টি সন্ধি কচ্ছপসহ মনোজ রায় নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। পরে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেস মজুমদার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মনোজ রায়কে ২ হাজার টাকা জরিমানা এবং কচ্ছপগুলোকে খানজাহান আলীর (রহ) মাজারসংলগ্ন দীঘিতে অবমুক্ত করার আদেশ দেন। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া এলাকার মঙ্গল চন্দ্র রায়ের ছেলে মনোজ রায় বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা কচ্ছপগুলো বিক্রির জন্য মোংলায় নিয়ে এসেছিলেন।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, সন্ধি প্রজাতির এ কচ্ছপগুলো মিঠাপানির প্রাণী। বরিশালের গৌরনদী, বাগেরহাটের চিতলমারী ও মোল্লাহাটসহ মিষ্টি পানি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় এ কচ্ছপ পাওয়া যায়। দিনদিন এ কচ্ছপ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এজন্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এ কচ্ছপ আহরণ, সংরক্ষণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ। মোংলা থেকে উদ্ধার করা এ কচ্ছপগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের নির্দেষণা অনুযায়ী বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে খানজাহান আলীর (রহ.) মাজারসংলগ্ন দীঘিতে অবমুক্ত করেছি। কচ্ছপগুলো এখানে বাঁচতে পারবে এবং বংশবিস্তার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মফিজুর রহমান চৌধুরী।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ প্রণয়ন করেছে। যার উদ্দেশ্যই হলো আমাদের বন্যপ্রাণীকে স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিতে বিচরণের সুযোগ দেয়া। এগুলোকে কোনোভাবে শিকার বা মারা যাবে না। যদি কেউ এসব আইন লঙ্ঘন করে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।