রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে খাসজমিতে প্লট বানিয়ে ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় মৌজা হেডম্যানের কাছ থেকে এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত নেয়া জমিতে ২৪টি প্লট তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ-বিএনপির সাবেক ও বর্তমান নেতা, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং তাদের স্বজনরা এ কাজের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সরজমিন দেখা গেছে, নানিয়ারচর উপজেলার পরিষদ কার্যালয়ের পাশে ইটের পিলার বসিয়ে প্লট হিসেবে জায়গার ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে। সড়কঘেঁষেই বাঁশ দিয়ে বেড়া দেয়া হয়েছে শহীদ মিনারের বিপরীত পাশের সেতুর অ্যাপ্রোচ থেকে নানিয়ারচর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আগ পর্যন্ত। সড়কের এক পাশের পুরো জায়গাটি দখল হয়ে গেছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২৪টি প্লট ভাগাভাগি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্লটে টিন ও কাঠের আদলে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমাসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা ছয়কুড়িবিল মৌজার হেডম্যান মনিকা দেওয়ানের কাছ থেকে জমিটি এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত নেন। পরে সেখানে প্লট তৈরি করে ভাগাভাগি করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক মৃধা, বিএনপির সাকেব কর্মী মো. জলিল, উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী মো. হেলাল, জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) সাবেক কর্মী বুলেট চাকমা, ভূমি অফিসের কর্মচারী বাপ্পো চাকমা, চায়ের দোকানি নন্দ দাশ, যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্য প্রিয়তোষ দত্ত এ কাজের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দোবস্ত নেয়া জমি বিক্রির সুযোগ নেই। অনেকেই উন্নয়নের স্বার্থে সেই জমিতে গাছপালা সৃজন করতে পারেন। ওই জমিতে কতটা প্লট, আমি তা জানি না, তবে আমার একটাও নেই। মানুষ বলাবলি করে সেখানে আমারও প্লট রয়েছে। কিন্তু এটা সত্য নয়। প্লটগুলোর মধ্যে প্রেস ক্লাবসহ স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালিরা অনেকেই আছেন।’

এ ব্যাপারে নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। শুরুতেই আমরা স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিয়েছি। দখলদারদের দাবি, জায়গাটি স্থানীয় হেডম্যানের কাছ থেকে নিয়ে তারা স্থাপনা গড়ে তুলছেন। স্বাভাবিকভাবে সড়কের পাশে হওয়ায় জায়গাটি সড়ক বিভাগের হওয়ার কথা। স্থাপনা নির্মাণকারীদের দাবির খুব বেশি যৌক্তিকতা নেই।’