তারা বলেন, দেশের ৮০ শতাংশ ফ্রেইট ব্যবসা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশই প্রান্তিক বা স্থানীয় পর্যায়ের। এখানে বৈদেশিক বিনিয়োগের চেয়ে বেশি প্রয়োজন নীতিসহায়তা। এছাড়া লজিস্টিকস খাতে বিদেশীরা শুধু লাভ দেখে বিনিয়োগ করে। যখন চ্যালেঞ্জ সামনে আসে তখন আর ব্যবসা চালিয়ে নেয় না। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চালিয়ে নিতে হয়। সে জায়গা থেকে এফডিআই কতটুকু প্রয়োজন আছে সে প্রশ্ন যেমন সামনে আনতে হবে, তেমনি নিজস্ব ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করতে স্থানীয় উদ্যোক্তের এগিয়ে নিতে হবে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘লজিস্টিকস খাতে দেশীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা ও নীতি সংস্কার’ শীর্ষক নীতিনির্ধারণী গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। এতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও লজিস্টিকস খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। গোলটেবিলের আয়োজন করে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ (সিএসআর)। সেমিনারে ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন লজিস্টিকস খাতের প্রতিনিধিরা।

সেমিনারে উপস্থাপিত ছয় দফা প্রস্তাবের মধ্যে ছিল লজিস্টিকসের বিভিন্ন উপখাতে দেশীয় মালিকানার ন্যূনতম কাঠামো বজায় রাখা, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় অভিন্ন নীতির প্রয়োগ, বিদেশী অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রকৃত মূলধন বিনিয়োগের শর্ত নির্ধারণ, প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমনের প্রভাব মূল্যায়ন এবং প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান আরো শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্রেইট ব্যবসা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশ প্রত্যাশিত বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা এফডিআই নিয়ে আসে না। কিন্তু এ খাতের প্রতিষ্ঠান শুরু করতে হলে ন্যূনতম একটি বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। বাফা এখানে নতুন উদ্যোক্তদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করছে। যেহেতু বিদেশী বিনিয়োগ কম আসে সেখানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহায়ক নীতি প্রয়োজন। সেজন্য বলব বিদেশী প্রতিষ্ঠানের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা অব্যাহত থাকলে দেশের নিজস্ব লজিস্টিকস শিল্প দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।’

বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) সাবেক সভাপতি এটিএম আজিজুল হক (ডেভিড) বলেন, ‘উচ্চসুদের কারণে দেশীয় উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর সুদহার ২৩-২৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যা অনেক উদ্যোক্তাকে ব্যবসা থেকে সরে যেতে বাধ্য করছে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছে। অনেক বিদেশী প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ না এনে কেবল সেবা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে যাচ্ছে।’

নীতিসহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নীতি প্রণয়নে দেশপ্রেম ও সততা থাকা জরুরি। দেশে আমলাতন্ত্র বিরাট ভূমিকা পালন করে। তারা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। অথচ উচিত ছিল খাতসংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে নীতি প্রণয়ন করা।’

সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, নওঁগা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সাবেক সভাপতি মাহমুদ হোসেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাংবাদিক হাসান মামুন প্রমুখ।