এর মধ্যে নতুন করে এমআরআই মেশিনেও দেখা দিয়েছে ত্রুটি। ফলে জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটতে হচ্ছে রোগীদের। এতে একদিকে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। সরকারি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মেশিন অচল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।
গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এসব রোগীর অনেককেই সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সিটি স্ক্যান মেশিনটি গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত চালু ছিল। এরপর বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে মেশিনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে ত্রুটি দেখা দিলে এটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় পাঁচ মাস ধরে মেশিনটি অচল থাকায় রোগীদের বাইরে গিয়ে সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালের এমআরআই মেশিনটিতেও গত কয়েক দিন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে এর আগে প্রায় এক মাস ধরে মেশিনটি দিয়ে সীমিত পরিসরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছিল। বর্তমানে ব্রেইন ও জয়েন্টের কিছু পরীক্ষা করা গেলেও স্পাইন বা মেরুদণ্ডের এমআরআই করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন মনির হোসেন নামে একজন রোগী। ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসক দেখাতে সক্ষম হলেও পরীক্ষাগুলো করতে পারেননি এ হাসপাতালে। মেশিন নষ্ট থাকার কারণে তাকে অন্য হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট আনতে বলেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। মনির হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে অপেক্ষার পর আমি ডাক্তার দেখাতে পেরেছি। ডাক্তার আমাকে কিছু টেস্ট করতে দিয়েছেন। কিন্তু এখানে মেশিন নষ্ট। বাইরের কোনো হাসপাতাল থেকে পরীক্ষাগুলো করে আনতে বলেছে।’
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান, এমআরআই মেশিন দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০-১২ জন রোগীর পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু স্পাইনের জন্য ব্যবহৃত কয়েলটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ওই পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জানানো হয়েছে। মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কোম্পানি ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এমআরআই মেশিনটি পুরনো হওয়ায় এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুইচ ও যন্ত্রাংশ নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে। যেকোনো সময় এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে মেশিনটি পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে ব্রেইন ও জয়েন্টের কিছু পরীক্ষা করা সম্ভব হলেও স্পাইনের পরীক্ষা করা যাচ্ছে না।’
সিটি স্ক্যান মেশিনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে সফটওয়্যার আপডেটের পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি মেশিন দুটি মেরামতের জন্য একটি ব্যয় প্রাক্কলন দিয়েছে। তবে সে ব্যয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ক্ষমতার মধ্যে না থাকায় বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের (নিমিউ) মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
পরিচালক আরো বলেন, ‘মেশিন দুটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোম্পানির সঙ্গে সিএমসি (কমপ্রিহেনসিভ মেইনটেন্যান্স কন্ট্রাক্ট) করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কোম্পানির চাওয়া অর্থ সরকারের নির্ধারিত হারের তুলনায় বেশি হওয়ায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মন্ত্রণালয়, নিমিউ ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মধ্যে আলোচনা চলছে। দরকষাকষির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ব্যয়ের মধ্যে আনা সম্ভব হলে ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে মেশিন দুটি সচল করার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হবে।’ রোগীদের ভোগান্তি ও পরীক্ষা করাতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ার কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।










