রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত মঙ্গলবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রাত সাড়ে ৯টার পর দুই দফায় অনুভূত এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। রিখটার স্কেলে এগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২। দেশের অনেক স্থানেই তা অনুভূত হয় বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে।

পরপর দুবার ভূমিকম্প হওয়ায় আফটার শকের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি তার ভেরিফায়েড পেজে এ তথ্য জানান। এ গবেষক জানান, মিয়ানমারের আকিয়াব শহরের পূর্ব দিকে ‌মঙ্গলবার রাত ৯টা বেজে ৩৪ মিনিটের সময় যে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে আমেরিকান ভূত্বাত্তিক অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে সেটি ছিল ৫ দশমিক ৯ মাত্রার। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে এ ভূমিকম্প। এটি একই ফল্টের ওপর সংঘটিত হয়েছে যে ফল্টে ২০২৪ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল। এ ফল্টটি খুবই সক্রিয়। ফলে আফটার শক ভূমিকম্পের আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এ ভূমিকম্প কক্সবাজার শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ২০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে ও মিয়ানমারের আকিয়াব বন্দর থেকে পূর্ব দিকে ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে সংঘটিত হয়েছে, যার কারণে বাংলাদেশে অনেক ভারি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরায়ও ভূকম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রথম দফায় বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিট ১ সেকেন্ডের সময় ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। পরে ৯টা ৫১ মিনিটে আরেক দফা ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।’

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মিয়ানমারের যে এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে, এটি বস্তুত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। পরপর দুবার ভূমিকম্প হওয়ার কারণে আফটার শকের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সেখানে ভূমিকম্প হলে চট্টগ্রামে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে। ঢাকায় তেমন ক্ষতি হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌আফটার শক হলেও সেটা ৬ মাত্রার বেশি হবে না। সে হিসেবে ঢাকায় অনুভূত হবে কম। কিন্তু আমরা বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়ে গেছি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’