নোবেল বিজয়ী আমেরিকান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক পল ক্রুগম্যান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এটিকে ভুল পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এটা সমস্যাজনক কাজ। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু মার্কিন ভোক্তাদের জন্য খরচ বাড়াবে। এর মাধ্যমে আমাদের সুরক্ষায় কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়বে না।’
সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পল ক্রুগম্যান এ কথা বলেন। সাংবাদিক এজরা ক্লেইনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ক্রুগম্যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণাকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প এখন এমন এক জটিল শুল্কনীতি ঘোষণা করেছেন, যেখানে প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা হারে শুল্ক ধার্য করা হয়েছে এবং এ হারগুলো তথাকথিত ‘স্মার্ট মানি’ বা যারা নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে প্রজ্ঞাবান ভাবতেন, তাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি। এখন গড় শুল্কহার প্রায় ২৩ শতাংশ, যা এক কথায় অনেক বেশি। এ হার এমনকি ১৯৩০ সালের স্মুট-হাউলি ট্যারিফ অ্যাক্ট পাস হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি। অথচ এখনকার সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থনীতির অনেক বড় অংশজুড়ে রয়েছে, যা ১৯৩০-এর দশকে ছিল না। সুতরাং এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য ধাক্কা—এমনটাই বলা চলে।’
ক্রুগম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের শুল্ক খরচ কতটা বাড়াবে তা একেবারেই স্পষ্ট। অথচ আমাদের চিপস অ্যাক্ট রয়েছে, যার উদ্দেশ্য অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরো স্বনির্ভর করে তোলা। কিন্তু ট্রাম্প বলছেন, এ উদ্যোগই নাকি ভয়ংকর। যদি কেউ জানতে চায়, কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তাকেন্দ্রিক শিল্পনীতি গড়ে তোলা যায়, যার লক্ষ্য হচ্ছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে রাখার—তাহলে তার উদাহরণ হলো চিপস অ্যাক্ট।’
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে পল ক্রুগম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করা জাতীয় নিরাপত্তাকেন্দ্রিক শিল্পনীতি গড়ে তোলার ঠিক বিপরীত কাজ। এ ধরনের সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, মার্কিন ভোক্তাদের জীবনযাত্রার খরচ বাড়ায় এবং জাতীয় নিরাপত্তায় কোনো অবদান রাখে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু জিনিস দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদনের যৌক্তিকতা আছে, আবার বন্ধুসুলভ দেশগুলোয় কিংবা নিকটবর্তী অঞ্চলে উৎপাদনেরও যৌক্তিকতা আছে। কারণ কাছাকাছি জিনিসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তুলনামূলক সহজ। যদি নিরাপত্তা আমাদের আসল লক্ষ্য হতো তাহলে আমরা ভিয়েতনাম বা বাংলাদেশে শুল্ক আরোপ করতাম না, আর কানাডা ও মেক্সিকোর মতো প্রতিবেশী ও মিত্র দেশগুলোর ওপর তো কোনোভাবেই শুল্ক বসাতাম না।’
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ছিল ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারের। এ খাতে শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাতটির সরাসরি চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তৈরি পোশাক খাত যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশজুড়ে রয়েছে।










