বিগত ১৫ বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সকল লুটপাটের আমলনামা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক কমিটি আয়োজিত ‘‌ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন ডাটা ভিশন: তারুণ্যে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি বিপ্লব’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘‌খুনি শেখ হাসিনা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশের আইসিটি সেক্টরে যে লুটপাট চালিয়েছে এবং ক্ষতি করেছে সেগুলোর আমলনামা আমরা দেখতে চাই। এ লুটপাট করার জন্য কিছু মানুষকে সুবিধা দিয়ে ধান্ধাবাজির যত প্রকল্প তারা করেছে এগুলোর ওপর একটি বিশ্লেষণ করে সেগুলো বাতিল করতে হবে। এগুলো দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে এর শেষ দেখতে চাই। তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যথাযথ ব্যবহার করে প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে হবে। জুলাই-আগস্টে এ সেক্টর থেকে প্রোডাক্টিভিটি পেয়েছে বলে খুনি হাসিনাকে দেশছাড়া করতে পেরেছে। এ প্রোডাক্টিভিটিকে কাজে লাগিয়ে আইসিটি মন্ত্রণালয়কে সাধারণ নাগরিকদের কাছে তুলে ধরতে হবে। আগামীর বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে চর্তুথ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনাকে সহজবোধ্যভাবে সবার মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে। এছাড়া আমরা বিল্ডিংয়ে বসে না থেকে সেখানে কাজ করতে চাই এবং সেটার জন্য মন্ত্রণালয়কে ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌বর্তমানে প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভর। সেখানে বুঝে না বুঝে আমরা নানা তথ্য দিয়ে দিচ্ছি। তথ্য প্রদানে আমাদের যে গোপনীয়তা থাকা উচিত সে বিষয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার করতে হবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে। এছাড়া আমরা যারা ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে চাই তাদের অর্থনৈতিক সাপোর্টের জন্য অনলাইনে উপার্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। রাজনীতিবিদদের পলিসি প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি এটিও গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের পলিসি অ্যাডভাইজর ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, ‘‌ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে আইসিটি খাতকে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান সরকার সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এখানে প্রথমত প্রয়োজন জবাবদিহিতা। বিগত সরকার প্রয়োজনীয়, অপ্রয়োজনীয় নানা প্রকল্প করে রেখেছে। সেগুলোর মাধ্যমে তারা লুটপাট করেছে। আগের মন্ত্রীরা নিজেদের মতো প্রকল্প করে ভুল সময়ে, ভুল জায়গায় ব্যবহার করে দুর্নীতি করেছে। যা এখন আমাদেরকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এখন আমরা নতুন করে কাজ শুরু করেছি। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ৩০টি প্রকল্প চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌সচিবালয়ে আগুন লাগার পর আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কীভাবে তথ্যগুলোকে অটোমেট করে রাখা যায়। এজন্য আমরা ‘‌‘ডি-নথি’’ ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। এছাড়া আলাদা আলাদা জায়গায় তথ্যগুলো না রেখে একটি ‘‌ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন টিম’ গঠন করতে কাজ করছি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৫ থেকে ৬টি মন্ত্রণালয়কে এর আওতায় নিয়ে আসব। এখানে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। বিগত সরকার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বানিয়েছিল। তার মধ্যে থেকে আমরা দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বন্ধ করেছি। আমরা ঢাকার বাইরে কাজ করতে চাচ্ছি। আমাদের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তথ্যের সুরক্ষা। আমাদের অনেক তথ্যকে ফেইক আকারে ব্যবহার করছে কিছু মহল। সেখানেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তার জন্য জেলা-উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কাজ করব।’

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘‌জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আমরা তথ্য প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছিলাম। তখন সবার ফেসবুক প্রোফাইল লাল করেছিলাম। তারা চেয়েছিল কালো করে দিতে। আমরা লাল করেছিলাম এবং সফল হয়েছি। আমরা ভবিষ্যতেও তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই। সেজন্য আইসিটি মন্ত্রণালয়কে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সদস্য টিনা নন্দী, ফারজানা সাদিয়া, শিশির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।