ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার করা মামলা পরিচালনায় ওআইসির সদস্য দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ২৩তম বিশেষ অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওআইসির নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদকে স্বাগত জানান। দায়িত্ব পালনকালে তাকে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে বিদায়ী মহাসচিবের অবদানের প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির আশা প্রকাশ করেন, আগের মেয়াদে সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে যেসব ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, নতুন মহাসচিব তার ওপর ভিত্তি করে ওআইসিকে আরো এগিয়ে নেবেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংস্থা হিসেবে মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ ও কল্যাণ এগিয়ে নিতে ওআইসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে সমর্থন করে। এ সমাধানের আওতায় একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে অবস্থান করবে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সংঘটিত নৃশংসতার বিচার চেয়ে আইসিজেতে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলা পরিচালনায় সহায়তার জন্য গঠিত স্বেচ্ছা ট্রাস্ট তহবিলে অর্থ দেয়ার জন্য ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারের অনুরোধ করেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্বাচিত করতে সমর্থন দেয়ায় ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।