একই সঙ্গে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরো জোরদার করতে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তিনি।

রাজধানীর রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ধরার জন্যও আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করব।’

তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট নিয়ে আমরা কার্যক্রম পরিচালনা করব। এটা চালু আছে। এগুলো জোরদার করার জন্য আমরা আজ (শনিবার) আরো পরামর্শ দিয়েছি। কিছু কৌশল প্রণয়ন করেছি, যেটা এখানে আমার বলা ঠিক হবে না।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘যারা হেভি ওয়েপনস উদ্ধারে সহযোগিতা করবে, খবর দেবে, তাদের আমরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করব। যারা পিস্তল, রিভলভার ও শটগান উদ্ধারে তথ্য দেবে, তাদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করব। এর বাইরে সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ার গ্যাসের শেল ও অন্যান্য যে অস্ত্র আছে, সেগুলো উদ্ধারের জন্য যারা সহযোগিতা করবে, সংবাদ দেবে, তাদেরও আমরা ১০ হাজার, ১৫ হাজার, ২০ হাজার টাকা করে ক্ষেত্রমতে পুরস্কৃত করব।’

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এরই মধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তথ্য প্রদানকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা দেয়া হয়নি, সেগুলোকে এরই মধ্যে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মতবিনিময় করেন।