তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সহায়তা নিশ্চিত করতে আনএমপ্লয়েড ওয়ার্কার্স প্রটেকশন প্রোগ্রাম (ইউডব্লিউপিপি) ও লেবার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলইএমএস) বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়িত ‘টিএ-এসপিবিএস’ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় বিজিএমইএর সদস্য কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের ইউডব্লিউপিপি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, সুবিধাভোগীর যোগ্যতা, নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা এবং ডিজিটাল শ্রম তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।
কর্মশালায় বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামসংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও সেন্ট্রাল ফান্ডের পরিচালক তাহমিনা বেগম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক আল আমিন, জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের উপদেষ্টা মাহবুবুল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়িত টিএ-এসপিবিএস প্রকল্পের ম্যানেজার ভ্যালেন্টিনাসহ অর্ধশতাধিক সদস্য কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা বলেন, পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। সেন্ট্রাল ফান্ডের উদ্যোগগুলো সংকটে পড়া শ্রমিকদের সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। শিল্পের সহনশীলতা বজায় রাখতে এবং শ্রমিকদের দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার, বিজিএমইএ ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
স্বাগত বক্তব্যে জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া কারখানাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং বেকারত্ব বা সংকটের সময়ে শ্রমিকদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ভ্যালেন্টিনা শিল্প খাত, সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগে শ্রমিকদের সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাময়িক অর্থনৈতিক সংকটে পড়া শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা জরুরি। এ সময় পোশাক খাতের শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব ধরনের সহায়তামূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং সেন্ট্রাল ফান্ডের পরিচালক তাহমিনা বেগম আনএমপ্লয়েড ওয়ার্কার্স প্রটেকশন প্রোগ্রামের সুবিধা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন।
২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন শুরু হওয়া সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিমার্জিত রূপ হলো এ আনএমপ্লয়েড ওয়ার্কার্স প্রটেকশন প্রোগ্রাম। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল ফান্ডের অধীনে পরিচালিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে কারখানা বন্ধ, দুর্ঘটনা বা মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে সাময়িক কর্মহীন শ্রমিকদের গভর্নমেন্ট-টু-পার্সন ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ ৩ মাস সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় প্রযুক্তিগত সেশন ও উন্মুক্ত আলোচনা ছিল। টিএ-এসপিবিএসের প্রতিনিধিরা আনএমপ্লয়েড ওয়ার্কার্স প্রটেকশন প্রোগ্রামের আবেদন ও সুবিধা পাওয়ার বিস্তারিত প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক আল আমিন ডিজিটালাইজড শ্রম তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির গুরুত্ব ও ডেটা ব্যবস্থাপনার ব্যবহারিক দিক তুলে ধরেন। কারখানার পে-রোল ও এনআইডি তথ্য নির্ভুল রাখার ওপর জোর দেয়া হয়, যেন ভুলের কারণে কোনো প্রকৃত দুস্থ শ্রমিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।
জিআইজেডের উপদেষ্টা মাহবুবুলের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালাটি শেষ হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিজিএমইএর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের সেকশন-ইনচার্জ ও ডেপুটি সেক্রেটারি শায়লা আক্তার নোভা।










