বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকার গঠনের পর বিএনপির অধীনে এটিই প্রথম নির্বাচন।

নির্ধারিত সময়ে আজ সকাল সাড়ে সাতটায় দুই আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মো. আল-আমিন তালুকদার।

এ আসনে ১৫০ কেন্দ্র ও ৮৩৫টি ভোটকক্ষে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। নির্বাচনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ২৫০ জন, বিজিবি ৬ প্লাটুন (১২৩ জন), র‍্যাবের ১০টি টিম (৭০ জন), পুলিশ ১ হাজার ৩২৭ ও আনসার ভিডিপি ১ হাজার ৯৯০ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১২৮ কেন্দ্র ও ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ভোটের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৪০ সদস্য, বিজিবি ১৬ প্লাটুন (৩২৮ জন), র‍্যাবের ১৪টি টিম (১৩৫ জন), পুলিশ ১ হাজার ১৫৫ ও আনসার ভিডিপি ১ হাজার ৭০৪ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। ভোট কেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় বিভিন্ন বাহিনীর ১৮-২০ জন নিরাপত্তা সদস্য থাকছেন। নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োজিত রয়েছেন ৩৬ জন। ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক মোতায়েন থাকছেন ১৮ জন করে। এছাড়া স্থানীয় সংস্থার পর্যবেক্ষক আছেন চার শতাধিক।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনেও বিজয়ী হন তিনি। পরে তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপনির্বাচন।

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তার ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করেছে জামায়াত। এখানে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল)। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রার্থী মিজানুর রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই এ দুই আসনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে গতকাল জানান পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন।

তিনি বলেন, ‘‌প্রার্থীদের অধিকার এবং ন্যায্যতার পাশাপাশি ভোটারদের জন্যও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই এ দুই নির্বাচনেও শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। এখানে কোনো প্রার্থীকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই। সব প্রার্থীর জন্যই সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’