বান্দরবানে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা থামানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই।
গোপনে-প্রকাশ্যে স্থানীয় একাধিক চক্র ও প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে সাবাড় করছে।
পাহাড় কাটায় পিছিয়ে নেই জনপ্রতিনিধিরাও।
সর্বশেষ জেলার থানচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে।
পাহাড় কাটার সত্যতাও পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে ম্রো জনগোষ্ঠীর দুই পাড়ার সামাজিক বন ধ্বংস করে দখলে নেয়া জায়গায় ফলজ বাগান করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে চার বছর আগে ওই ফলজ বাগানে বিএডিসির দেয়া একটি সৌরশক্তিচালিত সেচ সিস্টেম প্রযুক্তির মেশিনটিও উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাইয়ের দখলে।
তবে পাহাড় কাটার সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
গত শুক্রবার সকালে জেলা সদর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে স্থানীয়রা জানায়, থানচি সদর ইউনিয়ন সড়ক থেকে আমতলী পাড়া সড়কের শুরুতে বিজ্ঞানী মংসানুপাড়া।
পাড়া সড়ক ঘেঁষে কমবেশি ১০০ ফুট উঁচু একটি বিশাল পাহাড় রয়েছে।
সড়ক ঘেঁষা অংশ হতে পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে গোটা পাহাড় থেকে আনুমানিক ১০০ ফুট ও সড়ক ঘেঁষে প্রায় ২০০ ফুট কাটা পড়েছে।
এ পর্যন্ত গোটা পাহাড়ের মধ্যে এক পাশের অংশ হিসেবে উঁচুর দিক দিয়ে ৩০ ফুটের বেশি পাহাড় কেটে সমান করার আলামত রয়েছে।
পাহাড় কাটার মাটি ট্রাকে পরিবহন করে হিউমেনিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন নামের একটি স্থানীয় এনজিওর জায়গায় ভরাট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনজিওটির উপজেলা ব্যবস্থাপক জীবন চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের অফিসের জায়গায় পাহাড় কাটার ২০ ট্রাক মাটি দিয়ে গেছে।
এছাড়া প্রভাব খাটিয়ে ম্রো জনগোষ্ঠীর রুমবেত ও অম্পুং পাড়ার সংরক্ষিত পাড়া বন ধ্বংস করেন উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামং মারমা।
তিন প্রজাতির বাঁশঝাড়সহ বন ধ্বংসের চিহ্ন মুছে দিতে দখল করা সরকারি খাস ভূমিতে তিনি তড়িঘড়ি করে ফলজ চারা রোপণ করেন।
চার বছর আগে এ বাগানে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) একটি বাঁধ ও সোলার প্রযুক্তি প্রকল্প স্থাপন করে।
স্থানীয়রা জানায়, বাগানে সোলার দিয়ে পানি তোলার একটা মেশিন ছিল।
গত বছর উপজেলা চেয়ারম্যানের ছোট ভাই থোয়াইপ্রুঅং মারমা সোলারসহ সব খুলে নিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে থোয়াইপ্রুঅং মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, বাগানে স্থাপনের পর মেশিনটি দিয়ে ঠিকমতো পানি উঠত না।
নষ্ট হয়ে যাবে বলে নিজ বাড়িতে এনে ঝিরি থেকে পানি তোলার কাজে ব্যবহার করছি।
তার বড় ভাই থানচি উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামংয়ের পাহাড় কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বড় ভাইয়ের নামে পাহাড় কাটা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা বাড়াবাড়ি।
প্রকৃত সত্য হলো ২০-২৫ বছর আগে পাহাড় থেকে ১০-১২ শতকের মতো জায়গা কিনেছিলেন তিনি।
এখন সেখানে অল্প কিছু মাটি সমান করা হচ্ছে।
পাহাড়ের মাটি কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে থানচি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামং মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, আমাকে পাহাড় কাটতে দেখেছে কেউ।
পাহাড় কে কেটেছে তা আমার জানা নেই।
পাহাড় কাটা অংশটি আপনার কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজপত্র খুঁজে দেখেন বলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন তিনি।
এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের পরিদর্শক মো. আব্দুছ ছালাম বণিক বার্তাকে বলেন, বলেন, থানচি উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইহ্লামংয়ের অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে।
গত শনিবার থানচি পরিদর্শন করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
থানচি মো. আতাউল গণি ওসমানী বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাহাড় কাটার সত্যতা পেয়েছি। জায়গার মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।









