দীর্ঘ ছয়দিনের ঈদের ছুটিতে গ্রামে ফিরেছে রাজধানীবাসী। ঈদের ছুটির সঙ্গে যুক্ত ছিল বাংলা নববর্ষের  ছুটিও। ফলে ছুটি শেষ করে এখনো রাজধানীতে ফিরেননি চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ। যার প্রভাব পড়েছে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে। নগরবাসীর অনুপস্থিতিতে অন্য বছরের মতো জমে ওঠেনি এবারের বৈশাখ আয়োজন।

প্রতিবছর বৈশাখ উদযাপনে রমনার বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র সরোবর, শিল্পকলা একাডেমিসহ উৎসব কেন্দ্রগুলোতে ভিড় হলেও এবার উৎসবস্থল ছিল অনেকটা নির্জীব। রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা এমন চিত্র দেখা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমাম হাসান বলেন, অন্যান্য বছর আমরা বন্ধুদের সঙ্গে বৈশাখ উদযাপন করি। কিন্তু এবার ঈদের ছুটির সঙ্গে নববর্ষের ছুটি যোগ হওয়ায় সে সুযোগ আমাদের হলো না। হলগুলো এখনো খালি হয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা না থাকায় ক্যাম্পাসে চোখে পড়ার মতো ভিড়ও নেই। শিক্ষার্থীরা হয়তো দুই একদিনের মধ্যে ফিরবে। কিন্তু বন্ধুদের বৈশাখের উৎসবে না পাওয়ায় ভালো লাগছে না।

ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা জানান, প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে ক্রেতাদের ভিড় থাকত। তারা হরেক রকম কুলা, ডালা, বাঁশি, খেলনা, পুতুল নিয়ে বসলে ক্রেতারা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরত। এতে বেচা-কেনাও ভালো হতো। তবে এবার ঈদের ছুটির সঙ্গে পহেলা বৈশাখের ছুটি এক হয়ে যাওয়ায় মানুষের উপস্থিতিও কম, একইসঙ্গে বেচাকেনাও কম।

বাঁশি বিক্রেতা মামুন হোসেন বলেন, আমাদের চিন্তা থাকে কত বিক্রি করতে পারলাম। মানুষ কিনলে আমাদের পহেলা বৈশাখ সুন্দর হয়ে ওঠে। এবার ভালো বেচা বিক্রি হচ্ছে, সেজন্য ভালো লাগছে। তাই এবার নতুন পোশাক কিনেছি, বেচাকেনার জন্য নতুন পোশাক পরতে পারছি না। শেষ হলে ব্যাগ থেকে নিয়ে পড়ব।

রিকশাচালক আব্দুল জলিল বলেন, উৎসব চললেও আমরা যেতে পারছি না। উৎসবের আগে ব্যারিকেড দেয়া, আমরা যেতে চাইলেও ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এবার ভাড়াও কম। অন্যান্য বছর বেশী পেলেও এ বছর খুব বেশী পাচ্ছি না। ঈদে বাড়ি যাওয়ার কারণে মানুষ একেবারেই কমে গেছে। সারাদিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাব মাত্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন বলেন, আমরা বৈশাখ উদযাপনের জন্য গতকাল ময়মনসিংহ থেকে চলে এসেছি। চার বছর রমজানের কারণে বৈশাখ পালন করা হয়নি। এ বছর সুযোগ ছিল। ঈদের দুইদিন পরে হওয়ায় বন্ধু-বান্ধব ছাড়া উৎসব পালন করতে হচ্ছে।