কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধের নির্ধারিত তিন মাস সময়ের মধ্যেও পর্যাপ্ত পানি না বাড়ায় নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও যদি পানি না বাড়ে সেক্ষেত্রে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটি। বর্ধিত এক মাস সময়েও সব ধরনের মাছ ধরা, বাজারজাত বন্ধ থাকবে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৈঠকে কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. আশরাফুল আলম ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাঙ্গামাটি নদী উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লিপন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তবে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ীদের কোনো প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেননি।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ২০ এপ্রিল থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধের পর ২০ জুলাই থেকে স্বাভাবিক নিয়মে আহরণ শুরুর কথা। তবে হ্রদের পানি পর্যাপ্ত না বাড়ায় ও মাছের পোনার সুষম বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞার সময় আরো এক মাস বাড়িয়ে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের সুষম বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতি বছর ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ সময় হ্রদের মাছ বাজারজাত ও স্থানীয় বরফকলগুলোও বন্ধ থাকে। কিন্তু জলাবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চার বছর ধরে হ্রদে পর্যাপ্ত পানি না বাড়ার কারণে বিলম্বে মাছ আহরণ শুরু হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. আশরাফুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধের সময়ে হ্রদের পানির পরিমাণ ছিল ৭৬ দশমিক ৪০ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। গত শনিবারের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পানি রয়েছে ৭৫ দশমিক শূন্য ৪ এমএসএল। সে হিসাবে বন্ধকালীন থেকে বর্তমানে পানি না বেড়ে উল্টো এক এমএসএল কমেছে। বিশাল কাপ্তাই হ্রদের হিসাবে এ এক এমএসএল পানি অনেক।’
এ বছর হ্রদে পানি কম থাকায় ১০ দিন আগেই মাছ আহরণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। হ্রদে পর্যাপ্ত পানি না বাড়ার কারণে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।’
কমান্ডার আশরাফুল আলম আরো বলেন, ‘বাড়তি এক মাস বন্ধকালীনও জেলেদের জন্য ভিজিএফ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক মাস পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রান্তিক জেলে ও ব্যবসায়ীদের বিষয়টি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে এই এক মাস অনেক সময়। তাই আমরা আশা করছি, বৃষ্টিপাত হলে এ সংকট থাকবে না। আর হ্রদের যেসব পানির উৎস্য রয়েছে সেগুলো নিয়ে গবেষণা করা দরকার।’










