নির্দিষ্ট সময়ের দুই বছর পার হয়ে গেলেও শেষ হয়নি সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল আদালত ভবন নির্মাণকাজ। ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কবে এ ভবনে বিচারকাজ শুরু হবে তা নির্দিষ্ট করে সংশ্লিষ্ট কেউ জানাতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে থেকে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে নির্মিত  সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট ভবনের নিচ তলায় ছোট ছোট কক্ষে চলছে জুডিশিয়াল আদালতের কার্যক্রম। এখানে পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই। এমনকি দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। নেই টয়লেটের সুব্যবস্থা। যে কারণে বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে নারীদের ভোগান্তির শেষ নেই।

সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল আদালতে একজন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ নয়জন বিচারক এবং ৭৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এ ভবনেই চারটি এজলাসে কষ্ট করে বিচার কার্য পরিচালনা করছেন বিচারকরা। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয় হাজার মামলা চলমান। এসব মামলার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী  প্রতিদিন আদালতে আসেন। পর্যাপ্ত বসার জায়গা   ও টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

এ ভোগান্তি দূর করতে সরকার আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ কোর্ট ভবন এলাকায় জুডিশিয়াল আদালত ভবনের নির্মাণকাজের বরাদ্দ দেয়। সাড়ে ২৭ কাঠা জমির ওপর ১২তলার ভিত দিয়ে আট তলার নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের মার্চ মাসে। ভবনটিতে ২৪টি এজলাস, তিনটি লিফট, পর্যাপ্ত বসার জায়গা ও প্রয়োজনীয় টয়লেটসহ আধুনিক সব সুবিধা রেখে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৭ বর্গফুটের বিশাল আয়তনের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্ত আজ পর্যন্ত ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রউফ পান্না বলেন, জুডিশিয়াল আদালতের কার্যক্রম খুবই সংকীর্ণ জায়গায় চলছে। এতে করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নতুন ভবনের যে কাজটুকু বাকি আছে তা দ্রুত শেষ করে সাধারণ মানুষসহ সবার ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত হস্তান্তরের জন্য আমি জেলার সব আইনজীবীর পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম হুমায়ুন কবির বলেন, জুডিশিয়াল আদালত ভবনের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। এখন ভবন চত্বরে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ কাজের কিছু কাজ বাকি আছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই সব নির্মাণকাজ শেষ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করতে পারব।