সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার ৩২ দিন পর মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকরা। সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের দিনেও বিষাদে ছেঁয়ে ছিল তাদের পরিবারের ঈদ আনন্দ। তবে নাবিকদের মুক্তির সংবাদের পর থেকেই পরিবারগুলোয় বইছে আনন্দের জোয়ার। স্বজনদের অপেক্ষায় তারা এখন উচ্ছ্বসিত।

এ বিষয়ে এমভি আবদুল্লাহ জাহাজটির প্রধান কর্মকর্তা আতিকুল্লাহ খানের মা শাহনুর আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঈদের তিনদিন পরই যেন ঈদ এসেছে আমাদের ঘরে। আমার ছেলেসহ সবাই অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পেয়েছে, এ খবর শোনার পর ভালো লাগছে। তারা এখন নিরাপদে দেশে ফিরলে টেনশন থেকে মুক্তি পাব।’

নাবিক মোহাম্মদ নুর উদ্দিনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এ দিনগুলো কীভাবে কেটেছে জানি না। আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে ঈদের আনন্দের দিন ছিল বিষাদে ভরা। আজ যেন আমাদের খুশির ঈদ। কেএসআরএম গ্রুপের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তারা তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেছে।’

আরেক নাবিক আইয়ুব খানের ভাই আওরঙ্গজেব রাব্বী দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়ার কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভাইয়ের জন্য দুশ্চিন্তায় এক মাস আমাদের বিষাদের দিন কেটেছে। আজ মনে হচ্ছে, সত্যিকারের ঈদ এসেছে। আমরা খুবই খুশি।’

কেএসআরএস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ নাবিকের মধ্যে চট্টগ্রামে যাদের বাড়ি তারা হলেন মাস্টার মোহাম্মদ আব্দুর রাশেদ, চিফ অফিসার মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ খান, সেকেন্ড অফিসার মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীর আহমেদ, ফায়ারম্যান মোশাররফ হোসেন শাকিল, চিফ কুক মো. শফিকুল ইসলাম, জেনারেল স্টুয়ার্ড মোহাম্মদ নূর উদ্দিন, মো. আসিফুর রহমান, মো. সাজ্জাদ হোসাইন, ওয়েলার আইনুল হক ও শামসুদ্দিন মোহাম্মদ।

লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে বাড়ি ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খান ও ইলেকট্রিশিয়ান ইব্রাহিম খলিল উল্লাহর। নোয়াখালীর নাবিক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ও ফাইটার মোহাম্মদ সালেহ আহমেদ। খুলনার সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌফিকুল ইসলাম, ফরিদপুরের থার্ড অফিসার মো. তারেকুল ইসলাম, টাঙ্গাইলের ডেক ক্যাডেট মো. সাব্বির হোসাইন। নওগাঁর চিফ ইঞ্জিনিয়ার এএসএম শাহিদুজ্জামান।

নেত্রকোনার থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. রোকন উদ্দিন ও নাটোরের অর্ডিনারি সি-ম্যান মোহাম্মদ জয়। সিরাজগঞ্জের মো. নাজমুল হক ও বরিশালের মো. আলী হোসাইন।