বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় ছয় মাসের মধ্যে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গতকাল রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন’ সম্পর্কিত গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।
স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করতে হেলথ ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা কার্যকর করা দরকার জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি হেলথ সেন্টার ও তিনটি করে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। প্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য ওয়েলবিং সেন্টার করা হবে, এক সপ্তাহের মধ্যে টেন্ডার করে তা এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’ এসব সেন্টারে রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা করাসহ বিভিন্ন স্ক্রিনিং করা যাবে বলে জানান মন্ত্রী।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে যে ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, তা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ উপযোগী হলেও একসঙ্গে সব বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তাই সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে পাইলট স্কিম হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ: নকশা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও এর কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এ আইনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন করার জন্য বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা ও সমন্বয় করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ হেলথ ইন্স্যুরেন্সের দিকে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসা খরচ চলে যাওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
নারীদের স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে গর্ভকালীন মা ও নারীরা যেভাবে বিব্রত এবং হেয়প্রতিপন্ন হন, তা থেকে তাদের রক্ষা করতে হবে। হেলথ সেন্টারগুলোকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে রূপান্তর করে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ব্রেস্ট ও সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের টেস্ট এআই মেশিনের মাধ্যমে করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে সফলভাবে চলছে। এটি খুব কম খরচে সব উপজেলায় পর্যায়ে চালু করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং চ্যালেঞ্জগুলো দূর করতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি স্তরে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’










