নববর্ষকে বরণ
করে নিতে নানা উদ্যোগ, আয়োজন আর উৎসবের আয়োজন হয় রাজধানী কিংবা রাজধানীর বাইরে মফস্বল
শহরগুলোয়। আনুষ্ঠানিক এসব উৎসবে যোগদান করে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।
কিন্তু দরিদ্র, নিম্নবিত্ত মানুষের নববর্ষ উদযাপন হয় ভিন্নভাবে।
শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পহেলা বৈশাখের সকাল শুরু হয় উপার্জনের চিন্তায়। অর্থের যথেষ্ট জোগান না থাকায় পহেলা বৈশাখের জামা কেনা সম্ভব হয় না। অনেকেই কিনলেও সকাল সকাল কাজে বের হয়ে পড়ায় জামা পরা হয় না। নতুন কাপড় ময়লা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই নতুন জামা পরেও বের হন না। পান্তা-ইলিশ না খেতে পারলেও পান্তা ভাত তাদের নিয়মিত খাবার।
রিকশাওয়ালা
আব্দুল জলিল বলেন, ‘উৎসব চললেও তো আমরা যেতে পারছি না। উৎসবের আগে ব্যারিকেড দেয়া,
আমরা যেতে চাইলেও আমাদের ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এবার আমাদের ভাড়াও কম। অন্যান্য বছর বেশি
পেলেও এ বছর খুব বেশি পাচ্ছি না। ঈদে মানুষ বাড়ি যাওয়ার কারণে তা একেবারেই কমে গেছে।
সারা দিনে ৪০০-৫০০ টাকা পাব মাত্র।’
আরেক রিকশাওয়ালা
মতিন মিয়া বলেন, ‘মানুষ আনন্দ-ফুর্তি করছে, আমি তো পয়সার জন্য ঘুরছি। আমরা পহেলা বৈশাখ
পালন করব কীভাবে? আমাদের তো টাকা-পয়সা নেই। কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, পেটের জন্য পয়সা
কামাতে হয়।’
বাঁশি বিক্রেতা
মামুন হোসেন বলেন, ‘আমাদের চিন্তা থাকে কত বিক্রি করতে পারলাম। মানুষ কিনলে আমাদের
পহেলা বৈশাখ সুন্দর হয়ে ওঠে। এবার ভালো বেচা-বিক্রি হচ্ছে, সেজন্য ভালো লাগছে। তাই
এবার নতুন পোশাক কিনেছি, বেচাকেনার জন্য নতুন পোশাক পরতে পারছি না। শেষ হলে ব্যাগ থেকে
নিয়ে পরব।’










