কলা গাছ ব্যবহার করে টেকসই পোশাক তৈরির নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন তাইওয়ানের উদ্যোক্তা নেলসন ইয়াং। চাষের পর ফেলে দেয়া কলা গাছের মধ্যভাগ কাজে লাগিয়ে তিনি এমন একটি ফাইবার তৈরি করছেন, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্নিকার ও পোশাক ব্র্যান্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।

তাইওয়ান বর্তমানে আধুনিক সেমিকন্ডাক্টরের প্রধান উৎপাদনকারী দেশ। আগে কলা ও আনারস উৎপাদনের জন্য বিশ্বখ্যাত ছিল দেশটি। ১৯৬০-এর দশকে তাইওয়ান নিজেকে 'বানানা কিংডম' হিসেবে ব্র্যান্ড করে রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। সে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে আবারো নতুন কিছু তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইয়াং বলেন, ‘২০০৮ সালে ইউরোপের কিছু স্নিকার ব্র্যান্ড আমাদের বলেছিল, তারা চাইছে একই জমি থেকে খাবার ও উপকরণ দুটোই উৎপন্ন করা যায় এমন কোনো ব্যবস্থা নিতে। সে ধারণা থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি।’

তার প্রতিষ্ঠান ফার্ম টু ম্যাটারিয়াল চাষের পর অব্যবহৃত কলার গাছের মধ্যভাগকে প্রক্রিয়াজাত ও শুকিয়ে ফাইবারে রূপান্তরিত করছে। এ ফাইবার থেকে সুতাও তৈরি করা যায়, যা তুলোর সঙ্গে মিশিয়ে মোজা তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি এটি উদ্ভিজ্জ লেদারের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

banana 2

তাইওয়ান টেক্সটাইল ফেডারেশনের ডিরেক্টর অব দ্য ইনোভেশন অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ডিজাইন ডিপার্টমেন্ট শার্লট চিয়াং বলেন, ‘কলার ফাইবার তুলার তুলনায় পানি ব্যবহার, শোষণ ক্ষমতা ও সরবরাহ স্থায়িত্বের দিক থেকে ভালো কার্যক্ষমতা দেখাচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে টেক্সটাইল শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে এ উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। কোনো পোশাক কোম্পানি থেকে এখনো অর্ডার আসেনি। তবে এ ধারণা ও প্রযুক্তি তাইওয়ানের পরিবেশবান্ধব ফাইবার শিল্পে নতুন দিগন্ত সূচনা করতে পারে।