দিনটি উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় জশনে জুলুস। বিভিন্ন বয়সী বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন। কেউ হেঁটে, কেউ আবার ট্রাক, পিকআপ ও অটোরিকশায় করে জশনে জুলুসে অংশ নেন। কারো কণ্ঠে ছিল হামদ-নাত, আবার কারো কণ্ঠে ছিল তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকির।

রাজধানী: আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারিয়া ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দক্ষিণ গেট থেকে জশনে জুলুস বের হয়। শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর ও হাইকোর্ট মোড় হয়ে ফের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফিরে আসে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জুলুস শেষ হয়। জুলুসে নেতৃত্ব দেন আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারিয়া ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারি। আয়োজকরা বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে ওলামা, শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় নেতাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ জশনে জুলুস ও শান্তি সমাবেশে অংশ নেন। জুলুস শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারি।

তিনি বলেন, ‘মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তার শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি। মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন, মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দীন, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এমিরেটস ড. আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আখতারুজ্জামান, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারিয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলমগীর খান, মাওলানা মুফতি বাকি বিল্লাহ আজহারী ও মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়াসহ অনেকে।

3

রাজধানী ঢাকায় জশনে জুলুসে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন ছবি: তাওহীদুজ্জামান তপু

চট্টগ্রাম: ঐতিহ্যবাহী ৫৫তম জশনে জুলুসে নগরী ও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটেছে। ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসাসংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আয়োজক সংস্থা আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এতে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ। জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা পর্যন্ত সড়কে ভাসমান মেলা বসেছে, যেখানে টুপি, আতর, পোশাকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি হয়।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আঞ্জুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গত বছর অনাকাঙ্ক্ষিত পদদলনের ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এবার লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত উড়ালসড়ক বন্ধ রাখা ছাড়াও নগরের মূল সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার হাসান শওকত আলী জানান, শোভাযাত্রায় যেকোনো ধরনের অস্ত্র বা কুশপুত্তলিকা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ চট্টগ্রামে প্রথম এ জশনে জুলুসের প্রবর্তন করেন। সেই থেকে প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল নিয়মিতভাবে এ শোভাযাত্রা আয়োজিত হয়ে আসছে।

নেত্রকোনা: কেন্দুয়া পৌর শহরের চকপাড়ার দরবার-এ-গাউছে হাওলা খানকা-এ-শিবলী মঞ্জিলের উদ্যোগে মহব্বতে রাসুল (সা.)-এর জজবা ও ঈমানি চেতনায় জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলুসের নেতৃত্ব দেন হাওলাপুরী দরবার শরিফের পীর হযরত শাহ সুফি মাওলানা সৈয়দ নাঈমুল কুদ্দুছ আকবরী। জুলুস শেষে খানকা শরিফ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।

ফেনী: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ফেনী জেলা কমিটির উদ্যোগে ফেনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গাউছিয়া কমিটি ফেনী জেলার উপদেষ্টা নুর নবী রহমানী। অতিথি ছিলেন মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব অধ্যক্ষ কাজী নুর আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা মহি উদ্দিন ও গাউছিয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ উল্লাহ পাটোয়ারী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা নুরুল আমিন চৌধুরী সবুজ, মাওলানা জাকির হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহিদুল হক বুলবুল ও সদস্য সিরাজ উল্লাহ। এছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ও যুবসেনার নেতারাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার গাউছিয়া কমিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য এতে অংশ নেন। আলোচনাসভা শেষে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস (র‌্যালি) বের করা হয়।