চলতি বছরের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হলে শ্রমিক সংকটে স্থবিরতা দেখা দেয় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলে জুলাইয়ে শেষ হয় প্রথম টিউবের বোরিং। আর গতকাল শুরু হয়েছে টানেলের দ্বিতীয় টিউবের বোরিং কাজ।

গতকাল ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আনোয়ারা প্রান্তে টানেলের দ্বিতীয় টিউবের বোরিং কাজের উদ্বোধন করেন সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উদ্বোধনকালে প্রকল্প এলাকায় ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব মো. বেলায়েত হোসেন ও প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার এ সময়ে দেশী-বিদেশী শ্রমিক সংকটের আশঙ্কা নিয়ে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় টিউবের বোরিং কাজ। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও নভেল করোনাভাইরাসের কারণে শ্রমিকসহ বিবিধ সংকটে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ভৌত অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি। করোনাভাইরাসের কারণে প্রকল্পের কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। আগে গড়ে প্রতিদিন ৬০০ জন দেশীয় শ্রমিক কাজ করলেও লকডাউনের সময় গড়ে শ্রমিক সংখ্যা ২০০-২৫০-তে নেমেছিল। প্রকল্পটিতে ২৯৩ জন চীনা নাগরিক কাজ করছেন। তবে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) লিমিটেড আরো ৮৭ জন চীনা নাগরিককে প্রকল্পের কাজে যুক্ত করতে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এ শীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে টানেল নির্মাণকাজে শ্রমিক সংকট বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৬১ শতাংশ। প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও শেষ হয়নি এখনো। এ পর্যন্ত ৪২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক/ব্যক্তিকে ৩৬২ দশমিক ৩২২১ একর ভূমির বিপরীতে ১৯৬ দশমিক শূন্য ৮ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের জন্য ৩৮২ দশমিক শূন্য ৮২১ একর জমির প্রয়োজন হলেও এখনো ১৯ দশমিক ৭৬ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনকাজ শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট। করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনা শ্রমিক ও দেশীয় শ্রমিকের সংকটে পড়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই সময়ে (২৫ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত) মাত্র ৯৮০ মিটার বোরিং কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় টানেলের দ্বিতীয় টিউব বোরিং কাজ নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের পরিচালক মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়। এটি বিশ্বব্যাপী সংকট তৈরি করেছে। ফলে বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণকাজেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে সংকট সত্ত্বেও আমরা দ্বিতীয় টিউবের কাজ শুরু করেছি। শ্রমিক সংকট ছাড়াও করোনাভাইরাস সংক্রমণের পিক সিজনেও যতটুকু সম্ভব দ্রুত প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।