রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। এ কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে বরিশালে। বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এ রোগে আক্রান্ত ১৩৯ জন ব্যক্তি। এদিকে এ রোগ প্রতিরোধ ও মশক নিধনে জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ছাড়া অন্য যেসব জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি, তার একটি হলো বরিশাল। কয়েক সপ্তাহ ধরে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় হাসপাতালের বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বর্তমানে এ হাসপাতালে ৯২ জন পুরুষ, ৩৯ জন নারী ও আটজন শিশু ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৩৯ জন। গত শুক্রবার এ সংখ্যা ছিল ১১৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৫ জন, যার মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৪ জন নারী ও একজন শিশু।
গত ১৬ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ২১৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুজন এবং চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন ৭৫ জন। আর ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন তিনজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিধনে জেলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বেগম তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া মহিলা কলেজে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। এ অভিযানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। নগরীর সরকারি মহিলা কলেজেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। কলেজ ক্যাম্পাসে ঝাড়ু দেয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বলেন, কলেজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এটা আমাদের প্রতিদিনের কার্যক্রমের একটি অংশ। তার পরও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কলেজের হোস্টেল, প্রশাসনিক ভবন, ক্লাসরুমসহ পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম শুরু করেছি। এমনকি বাইরে থেকে শ্রমিক এনে এ কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, এডিস মশাই ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর জন্য দায়ী। এ মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা গেলে ডেঙ্গু আপনাআপনি নিয়ন্ত্রণে আসবে। এডিস মশা সাধারণত বোতল, টব, টায়ারে জমে থাকা স্বল্প গভীরতার স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে এডিসের জন্মস্থান ধ্বংস করতে হবে। এছাড়া কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে দেরি না করে তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পাশাপাশি প্রচুর তরল খাওয়াতে হবে।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, সচেতনতা আর পরিচ্ছন্নতাই পারে এ রোগ থেকে মুক্ত রাখতে। কারো জ্বর হলে প্রথমেই ডাক্তার দেখানো দরকার। সেক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। আমরা রোগীকে প্যারাসিটামলের পাশাপাশি স্যালাইন দিই এবং তরল খাবার দেয়ার কথা বলি। এছাড়া রোগীর অবস্থা বুঝে যেটা যে সময় প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী মেডিসিন প্রয়োগ করে থাকি। ডেঙ্গু রোগ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।










