সিকদার গ্রুপের (আর অ্যান্ড আর হোল্ডিং) বিরুদ্ধে প্রজন্ম পরম্পরায় বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে বসবাসকারী ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০০ একর ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে গতকাল বান্দরবান-চিম্বুক-থানচি সড়কের কাপ্রুপাড়া এলাকায় কালচারাল শোডাউন ও সমাবেশ করেছে ম্রো জাতিসত্তার কয়েকশ নারী-পুরুষ।

এ সময় ম্রোদের ঐতিহ্যবাহী ফ্লুং (বাঁশের তৈরি বিশেষ ধরনের নানা আকারের বাঁশি) বাজিয়ে ব্যানার, পোস্টার নিয়ে চিম্বুক পাহাড়ের বেশ কয়েকটি পাড়ার শত শত নারী-পুরুষ সমবেত হন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শত শত বছর ধরে চিম্বুক পাহাড়সহ নীলগীরিতে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে প্রজন্ম পরম্পরায় ম্রো জনগোষ্ঠী বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এই পাহাড় এ জাতিসত্তার জীবিকার প্রধান উৎস। কিন্তু কয়েক বছর ধরে পর্যটনের নামে ম্রোদের প্রথাগত ভূমি চিম্বকি পাহাড়ের নানা অংশ বেদখল হয়ে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়ে এখন প্রায় ৮০০ একর ভূমি জবরদখল করে সিকদার গ্রুপ নামের একটি চক্র এ পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এটি হলে ম্রো জনগোষ্ঠীর কাপ্রু পাড়া, কলাই পাড়া, দলা পাড়া, এরা পাড়া ও রেমনাই পাড়া উচ্ছেদ হবে। একই সঙ্গে পাড়াগুলোর ৪০৫টি পরিবার তাদের প্রথাগত ভিটেমাটি হারা হবে। এটি বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের বুধবার ম্রো জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।  

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কাপ্রু পাড়া, এম্পু পাড়া, গালেংগ্যা পাড়া, দলা পাড়া, রামরী পাড়ার কারবারিরা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের উটিং মারমা ও ম্রো লেখক ইয়াঙান ম্রো প্রমুখ। সমাবেশ সমাপনি বক্তব্য রাখেন রেংয়ং ম্রো।