মোবাইলে আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। প্রতিষ্ঠানটিকে আরো আধুনিক ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ‘বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘নগদ’ বিক্রি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গ টেনে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘নগদ বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের এ মুহূর্তে নেই। নগদকে আমরা আরো লাভজনক করব। প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে ১৮ কোটি টাকা দিয়েছে। এমন একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান আমরা কেন বিক্রি করব? আমরা নগদকে আরো আধুনিক করার চেষ্টা করব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, আয় ও সক্ষমতা আরো বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডাক বিভাগে বিদেশীরা বিনিয়োগ করতে চায় বলেও জানান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে। এক্ষেত্রে কারিগরি প্রক্রিয়া ও পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।’
ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন কর্মীদের উৎসাহিত করে। তাই যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের ডাকঘর ও কর্মীদের কাজের মূল্যায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ‘ডাক বিভাগের বিদ্যমান অবকাঠামো ও দেশব্যাপী বিস্তৃত পোস্ট অফিস নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ডাকসেবার সংস্কার ও রূপান্তরের পাশাপাশি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় এবং ডাক বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
সচিব আরো জানান, ডাকসেবার প্রচার-প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতে পুরস্কার কার্যক্রমে নতুন প্রতিভার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য—‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯-১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডাকসেবা সপ্তাহ পালিত হয়েছে। বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে এ বছরের প্রতিপাদ্যের ওপর গতকাল একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়।
ডাকসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং দেশব্যাপী চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এবং কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ মোট ২৬টি স্থানে চিঠি উৎসব, ডাকটিকিট প্রদর্শনী ও ডাকসেবা মেলার আয়োজন করা হয়। এসব চিঠি উৎসবে প্রায় ৪ হাজার ৬৪৩টি চিঠি ইস্যু করা হয়, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হাতে চিঠি লেখার আগ্রহ ও চর্চা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অবদানের জন্য মোট ২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।










