একই সঙ্গে গুদামে ৪১ টন ধান বেশি ও ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তা কম পাওয়া গেছে। বড় ধরনের এ গরমিলের ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

গতকাল সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান। গত বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে তাদের চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন নয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ১২ নম্বর বিধি অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তরের ২৫ আগস্টের একটি স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘিওর এলএসডিতে সরজমিন পরিদর্শন করে। এ সময় গুদামের হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত মজুদ মিলিয়ে দেখা হয়। এতে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি ধরা পড়ে। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি ও ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তা কম পাওয়া যায়। মজুদের এ বড় ধরনের অসংগতির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন জেলার খাদ্যগুদামগুলোয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ অডিট কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি দল ঘিওর খাদ্যগুদামে গিয়ে মজুদ খাদ্যশস্য, দাপ্তরিক নথিপত্র ও হিসাব যাচাই করে। যাচাইয়ের সময় হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত মজুদের বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে।