তবে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

গতকাল সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক সংস্কার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গুমের অভিযোগ, মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়ে আমার কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। আমি গণমাধ্যমেই এ ধরনের আলোচনা দেখছি। এর বেশি কিছু জানি না।’

প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন। তার মূল্যায়নে যদি কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টার কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক না হয়, তাহলে জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বা নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন, কোনো জায়গায় আরো ভালো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ রয়েছে, তাহলে তিনি সেটি করবেন। তবে এটি সরকারের ১৮০ দিন পূর্তির সঙ্গে সঙ্গে হবে, নাকি আরো কিছু সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। কার্যবিধি (রুলস অব বিজনেস) অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টনের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত।

বিগত সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব না দিলে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কীভাবে সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘দীর্ঘদিন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে থাকা রাষ্ট্রীয় কাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘একটি দেশ দীর্ঘদিন এ ধরনের সরকারের অধীনে থাকলে সেই ব্যবস্থার লোকজন বিভিন্ন জায়গায় থেকে যান। খুব দ্রুত সবকিছু পরিবর্তন করে ফেলা কঠিন। তবে গভীরভাবে দেখলে বোঝা যাবে, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের একটি রাজনৈতিক অংশ বদলায়। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার মূল প্রশাসনিক কাঠামো থেকে যায়। দেশের সব পর্যায় বিবেচনায় এ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা লাখ লাখ।’