নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার সকালে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, প্রতিমা বিসর্জনসহ উৎসবের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজান ও নামাজের সময় প্রয়োজনীয় নীরবতা বজায় রেখে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে অন্য ধর্মের উপাস্য সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন তিনি।
পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর আশঙ্কার বিষয়েও সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। পুরোনো বা সম্পাদিত ঘটনার অপব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে সচেতন যুবসমাজকে সঠিক তথ্য প্রচারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা আড়াল না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি ধরা পড়লে দায় এড়াতে তাকে ‘পাগল’ বা না বুঝে ঘটনা ঘটিয়েছে বলে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে মানুষের ক্ষোভ ও কষ্ট কমে আসে।
অপরাধীর পরিচয় আড়াল না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, কল্যাণ ট্রাস্ট এবং পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।










