তিনি বলেন, ‘এখন শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং রোগ প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এজন্য একদম জিরো (শূন্য) বয়স থেকে উদ্ভাবনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

গতকাল রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব খাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একজন ডাক্তারের হাসিমুখ ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দেয়। চিকিৎসকই পারে রোগীকে সুস্থ করে তুলতে। অসুস্থ অসহায় মানুষের শেষ সম্বল হয় ডাক্তার।’

তিনি বলেন, ‘মানুষকে চিকিৎসা হিসেবে কেবল ট্যাবলেট বা ওষুধ দেয়া নয়; ভালো কথা ও সঠিক পরামর্শও বড় চিকিৎসা। চিকিৎসকদের নিজেদের এমন মানবিক মানুষে রূপান্তর করতে হবে, যা কেবল ওষুধ নয়, আচরণ দিয়েও রোগীকে সুস্থ করে তোলে।’

ক্যান্সার ও কিডনি রোগী বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, দেশে মারাত্মকভাবে বেড়েছে কিডনি ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কিডনি ও ক্যান্সারের রোগীদের ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে হয় এবং এ রোগীদের কষ্টের সীমা নেই।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার শপথ নিয়েছে এ সরকার। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার বাইরে থাকবে না।’

তিনি রোগ প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি হেলথ কার্ডের সঙ্গে কার্যকর রোগী রেফারেল সিস্টেম সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিগগিরই দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মা ও নবজাতকের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’

হামে মৃত্যুর জন্য শিশুদের পুষ্টির অভাব উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়গুলোয় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না। তবে এখন হচ্ছে, কারণ বাচ্চারা শাল দুধ খেতে পারে না। মায়েরা শিশুদের ঠিকমতো দুধ খাওয়ায় না। এমনকি শিশুরা সুষম খাবার পায় না। সেজন্য এগুলো প্রতিরোধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডা. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ গবেষক তৈরিতে নিপসম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’