কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো বিচার পাননি নিহতের পরিবার। এতে হতাশ তারা।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত এলাকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ১৫ বছর বয়সী ফেলানী। তার হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রথম শুরু হয় ২০১৩ সালে। ওই বছর ১৩ আগস্ট বিএসএফের নিজস্ব আদালতে অমিয় ঘোষ নামে তাদেরই এক সদস্যকে বিচারের আওতায় আনা হয়। যদিও পরে অমিয়কে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয়া হয়। রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর পরিবার। পরে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় বিচার শুরু করে ভারত। ২০১৫ সালের ২ জুলাই অভিযুক্তকে পুনরায় নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয়া হয়। তারপর ন্যায়বিচারের আশায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যৌথভাবে রিট আবেদন করেন ফেলানীর বাবা ও মানবাধিকার সংগঠন সুরক্ষা মঞ্চ।

একই বছর ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রিট আবেদনটি গ্রহণ করেন। একাধিকবার শুনানির তারিখও পরিবর্তন হয়। তবু এখনো ন্যায়বিচারবঞ্চিত ফেলানীর পরিবার। এই ১১ বছরে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে মানবাধিকার সংস্থাসহ অনেকের কাছে গিয়েছেন বলে জানান ফেলানীর মা জাহানারা বেগম। বিচার না পাওয়ায় হতাশ তিনি।  ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বলেন, দুবার ভারতের কুচবিহারে গিয়ে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের নৃশংসতার বর্ণনাও দিয়েছেন। তার পরও ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য বিচার তারা পাননি। এখনো মেয়ের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের আশা করেন নুর ইসলাম। বলেন, আমরা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা ছাড়িনি। নুর ইসলামের আইনি সহায়তাকারী কুড়িগ্রাম জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) এসএম আব্রাহাম লিংকন। তিনি জানান, একাধিকবার তারিখ বদলের পর ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিচারপতি এনভি রামানা ও বিচারপতি মোহন এম সান্তনা গৌদ্ধারকে নিয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে ফেলানীর রিটটি কার্যতালিকার তিন নম্বরে ছিল। সে সময় বিবাদীকে শোকজ করেন সুপ্রিম কোর্ট। তারা শোকজের জবাব দিলেও পরবর্তী সময়ে আর শুনানি হয়নি। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে ন্যায্য বিচারের প্রত্যাশা করেন আব্রাহাম লিংকনও। বলেন, এই রিট নিষ্পত্তি করতে সুপ্রিম কোর্ট যে পর্যবেক্ষণ দেবেন তাতে দুদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব রাখবে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে মই বেয়ে কাঁটাতার পেরোনোর সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ফেলানী। বাবা নুর ইসলামও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও ফেলানীর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলে থাকে তার মরদেহ।