রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস শীর্ষক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনাকরীদের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা, গণপ্রেফতার, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে, জাতিসংঘ কর্তৃক তদন্তপূর্বক বিচারের দাবিতে এবং ছাত্র সমাজের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সারা দেশে এ কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন তারা। বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহসমন্বয়ক রিফাত রশিদ এ ঘোষণা দেন।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিহত ও আহতদের নিয়ে পরিবার ও সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ, চিত্রাঙ্কন বা গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন, ফেস্টুন তৈরি, ডিজিটাল পোট্রের্ট তৈরি, ক্যাম্পাস ও এলাকা ভিত্তিক শিক্ষক-ছাত্র-জনতা জমায়েত হয়ে গণহত্যা, গণপ্রেফতার, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও শিক্ষকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানানো এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন, মৌন মিছিল, মশাল মিছিল, পথনাটক, মঞ্চনাটক, প্রতিবাদী গানের আসর, মাইম ইত্যাদি কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এছাড়াও শহীদদের স্মরণে ওপরের যেকোনো বিষয়ে কন্টেন্ট বা লেখা লিখে নিম্নোক্ত হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনলাইনে ও অফলাইনে প্রচার করাও এ কর্মসূচির অংশ। 

বিজ্ঞিপ্ততে বলা হয়, বাংলাদেশ আজ সন্ত্রাসের কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার এই দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্র, পুলিশ, র‍্যাব,  বিজিবি, সেনাবাহিনী ও তাদের দলের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে বর্বর গণহত্যা চালিয়েছে। সরকার ও তার মদদপুষ্ট ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও যৌথবাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতায় শাহাদাত বরণ করেছে শিশুসহ শত শত সাধারণ নাগরিক। চলছে রাতের আঁধারে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে হানাদার বাহিনীর কায়দায় গণগ্রেফতার, সেই সঙ্গে চলছে গ্রেফতার বাণিজ্য। সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের রাস্তায় ধরে মোবাইল চেক, হয়রানির ও নির্বিচার গ্রেফতারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিদিনের চিত্র। এছাড়াও আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলীর ওপর ক্যাম্পাসের ভেতরে হামলা করেছে পুলিশ। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা শেহরীন আমিন মোনামী ও নুসরাত জাহান চৌধুরীর গায়েও হাত তুলেছে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা। আমরা ন্যাক্কারজনক এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একটি স্বাধীন দেশে এমন নজিরবিহীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।