যশোরের দুঃখ ভবদহ। ৪০ বছর ধরে এখানকার বাসিন্দারা পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। সরকার প্রকল্প নেয়, কিন্তু ভবদহ অঞ্চলের মানুষের অভিশাপ ঘোচে না। বর্তমানে অভয়নগর ও মণিরামপুর উপজেলার ৮০টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। বৃষ্টির পানিতে এসব গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িঘর, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে।

দুর্ভোগে পড়েছে ভবদহ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। অনেক পরিবার ঘরের মধ্যে মাচা তৈরি করে সেখানে থাকছে। শৌচাগার ও নলকূপ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়োনিষ্কাশন ও খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরা সম্প্রতি ভবদহ অঞ্চল ঘুরে এসেছেন। সংগঠনটির নেতা অধ্যাপক সুকুমার দাস জানান, ভবদহ অঞ্চলের মানুষের কষ্ট চোখে দেখা যায় না। বছরের পর বছর তারা পানিবন্দি। সরকার প্রকল্প নিচ্ছে, কিন্তু মানুষ সুফল পাচ্ছে না। সুফল ভোগ করছে সুবিধাবাদীরা। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এসে ভবদহ অঞ্চল ঘুরে দেখার আহ্বান জানান।

যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী দিয়ে এলাকার পানি ওঠানামা করে। অভয়নগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইস গেট দিয়ে মূলত এলাকার ৫২টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়। পলি জমে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্য হারিয়েছে। ফলে নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। বৃষ্টির পানিতে এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হয়েছে।

বর্তমানে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচের কাজ চলছে। ভবদহ ২১ ভেন্ট (কপাট) স্লুইস গেটের ওপর ১৪টি এবং ৯ ভেন্ট স্লুইস গেটের ওপর ছয়টি বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র বসানো আছে। স্লুইস গেটের একপাশের নদী থেকে পানি সেচ পাইপের মাধ্যমে অন্যপাশে নদীতে ফেলা হচ্ছে। ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে ২১ ভেন্ট স্লুইস গেটের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে ৩ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার শ্রী ও টেকা নদীতে পাইলট চ্যানেল কাটার কাজ চলছে।

ডুমুরতলা গ্রামের শংকর বিশ্বাস বলেন, গ্রামে ১৪৮টি বাড়ি আছে। এর মধ্যে ১৩৫-১৩৮টি বাড়িতে পানি উঠে গেছে। ঘরের মধ্যে ইট দিয়ে খাট উঁচু করে সেখানেই সবাই থাকছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তাদের দায়ী করে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী বলেন, মানুষকে জিম্মি করে তারা ভবদহের সমস্যা সমাধানের নামে বড় বড় প্রকল্প তৈরি করে লুটপাট করছেন। ফলে যুগের পর যুগ ধরে ভবদহের মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবরই চেষ্টা করছে ভবদহের সমস্যার সমাধানের। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করার উদ্যোগ নিয়েছে।