আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদার করতে একটি প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
‘সাইবার প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত মানবপাচার মোকাবেলা’ শীর্ষক প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে আইওএম ডেভেলপমেন্ট ফান্ড। আইওএম বাংলাদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অংশীদারত্বে এটি বাস্তবায়ন হবে।
বাংলাদেশে সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত মানবপাচার প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগকে সহায়তা করাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য। প্রকল্পের গবেষণালব্ধ তথ্য ও প্রশিক্ষণ উপকরণ ভবিষ্যতে নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান জাতীয় ও আন্তঃসংস্থার উদ্যোগকে আরো শক্তিশালী করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্লাটফর্ম, চাকরির পোর্টালসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাচারকারীরা মানুষকে শনাক্ত, প্রলুব্ধ, নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ করছে। এ ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ মোকাবেলায় প্রকল্পটি তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে কাজ করবে। এগুলো হলো তথ্য-প্রমাণ ও জ্ঞানভিত্তি শক্তিশালী করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটিতে ডিজিটাল সচেতনতা ও দক্ষতা উন্নয়ন।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের চীফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইং প্রধান এ কে এম সোহেলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইওএম এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আইওএম বাংলাদেশের চীফ অব মিশন বলেন, প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও সুযোগের সন্ধানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। তবে এটি মানবপাচারকারীদের দ্বারাও শোষণের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। প্রযুক্তি যাতে শোষণের হাতিয়ার না হয়ে সমাধানের অংশ হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ, দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে এ প্রকল্প সহায়তা করবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি মানবপাচার মোকাবেলায় প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টাকে এ প্রকল্প আরো সহায়তা করবে।










