ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ আহরণে ব্যবহৃত ক্ষতিকর জালের উৎপাদন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, এসব জাল ইলিশের উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এ ধরনের জাল উৎপাদন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার মৎস্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬-এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। এটি দেশের গর্ব ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ইলিশকে ঘিরে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশের উৎপাদন আরো বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, দেশে ৪০ লাখের বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইলিশ উৎপাদন, আহরণ ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এ খাত কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় উৎস। এ কারণে ইলিশ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, গত বছর প্রায় ৪০ হাজার জেলেকে ভিজিএফ সহায়তা দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সহায়তার পরিমাণ ও পরিধি আরো বাড়ানো হবে, যাতে জেলেরা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হন।
তিনি আরো বলেন, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে অতীতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। ২০০৩ সালে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইলিশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন। সে ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড ও পরিবার কার্ড কর্মসূচির আওতা ধীরে ধীরে দেশের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সম্প্রসারণ করা হবে। মৎস্যজীবীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার ও সৈয়দা নওয়ারা জাহান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, ইলিশ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।









