সিলেট ও সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ আরো ৬৮ জনকে ‘পুশ-ইন’ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গতকাল ভোরে সিলেটের কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও সুনামগঞ্জের নোয়াকোট সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের পুশ-ইন করা হয়। একই সময়ে লালমনিরহাটের তিন উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত দিয়ে একযোগে ৩৮ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাধায় সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, ৪৮ বিজিবির অধীন তিনটি সীমান্ত দিয়ে কয়েকটি গ্রুপে রাত সাড়ে ৩টা-৪টার মধ্যে ৬৮ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। এর মধ্যে সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ঝিংগাবাড়ি দিয়ে পুশ-ইন করা ছয়টি পরিবারের ২০ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, সাতজন নারী ও সাতটি শিশু রয়েছে। তাদের সবার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়।
অন্যদিকে বিজিবির অন্য একটি টহল দল জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর বিওপির অন্তর্গত জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলসংলগ্ন এলাকা থেকে আরো ৩২ জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ১৫টি শিশু রয়েছে। তাদের ১৯ জনের বাড়ি কুড়িগ্রামে, নয়জনের বাড়ি যশোরে ও চারজনের বাড়ি বাগেরহাটে।
এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার নোয়াকোট বিওপির অন্তর্গত ছনবাড়ি এলাকায় আরো ১৬ জনকে আটক করেছে বিজিবি। তাদেরও বিএসএফ পুশ-ইন করেছে। আটকদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, পাঁচজন নারী ও ছয়টি শিশু রয়েছে। তাদের সবার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়।
অন্যদিকে লালমনিরহাটের তিন উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত দিয়ে একযোগে ৩৮ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধায় সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, ‘দুর্গাপুর সীমান্ত দিয়ে ভোর ৫টার দিকে ১৩ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। তবে আমরা তা প্রতিহত করেছি।’
তিস্তা ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মুজাহিদ মাসুম জানান, পাটগ্রামের একাধিক সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। তবে বিজিবির তৎপরতায় কাউকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয়া হয়নি।
বিজিবির সূত্র জানায়, কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে যাদের পাঠানো হচ্ছিল, তারা ভারতীয় বাসিন্দা। এদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। বিজিবির বাধার মুখে এসব লোকজন ভারতের অংশে অবস্থান করছে। পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছে। গ্রামবাসীও বিজিবির সঙ্গে একত্রে পাহারা দিচ্ছেন।
বনচৌকি বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার লুৎফর রহমান বলেন, ‘দুজন নারী ও চারজন পুরুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে আমরা এতে বাধা দিয়েছি।’










