কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার গোপালপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নৈশপ্রহরী নিয়োগ ও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষক আব্দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, গোপালপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল রানা সভাপতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দফায় দফায় ছয়বার মেয়াদ বাড়িয়ে অনৈতিকভাবে পদ আঁকড়ে ধরে আছেন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিধান থাকলেও ১০ জন সিনিয়র শিক্ষককে ডিঙিয়ে ফাতেমা ইয়াসমিন নামে জুনিয়র এক শিক্ষককে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। নিয়োগ পাওয়া ওই শিক্ষক দায়িত্ব পাওয়ার আগ থেকেই ঢাকায় থাকেন। তিনি এর আগেও পাঁচ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ওই শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করতে ১০ শিক্ষককে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে অসুস্থতাজনিত কারণে দায়িত্ব না নেয়ার জন্য অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে বলেন সোহেল রানা। চাকরি হারানোর ভয়ে অন্য শিক্ষকরা স্বাক্ষর করলেও আমি ও রোজিনা বেগম নামে এক শিক্ষক তাতে স্বাক্ষর করিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে যোগ না দেয়া এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন স্কুলের সভাপতি।
তিনি আরো বলেন, এ মিথ্যা মামলার কারণে আট মাস ধরে আমাদের বেতন বন্ধ। ফলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
এ বিষয়ে সন্তোষপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকু বলেন, গত বছরের ১৫ আগস্ট গোপালপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কোনো শোক দিবস পালন করা হয়নি। অথচ শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি দেখিয়ে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে ওই মামলায় আদালত নাগেশ্বরী থানার ইনচার্জকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন। গত ২৬ আগস্ট সরেজমিনে তদন্ত করে তিনি অভিযোগের সত্যতা পাননি বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সভাপতি সোহেল রানা নৈশপ্রহরী আব্দুল গফফারকে চাকরিচ্যুত করে তার ভাই সেকেন্দার আলীকে লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহেল রানা বলেন, যা করার নিয়মমাফিক করেছি। এখন আপনাদের যা করার করেন।










